বিভিন্ন ধরণের ক্যানসার রয়েছে যার মধ্যে গলার ক্যানসার। অন্যান্য ক্যানসারের মতো এটাও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এমনি মৃত্যুও হতে পারে। সাধারণৎ এই ক্যানসার কণ্ঠনালিসহ গলার আশেপাশের টিস্যু আক্রান্ত করে। প্রথম দিকে এই ক্যানসারের উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি বা গলার সংক্রমণের মতো মনে হয়। তাই অনেক সময় মানুষ এগুলোকে ছোটখাট সমস্যা মনে করেন যেটা পরবর্তিতে জটিল হয়ে যায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে সুস্থ হওয়া সম্ভব বলছেন চিকিৎসক।গলার ক্যানসারের লক্ষণ: প্রাথমিক অবস্থায় বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই লক্ষণগুলোর বিষয়ে সচেতন হলে সহজেই চিকিৎসা নেয়া যায়। এগুলো হলো: ১. দীর্ঘস্থায়ী গলার ব্যথা: যদি গলা কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যথা করছে এবং আর ভালো হচ্ছে না, এটি গলার ক্যানসারের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসারের কারণে ব্যথা গভীর এবং গিলতে সমস্যা হয়। অনেকেই এটিকে ‘রেজার ব্লেড গলা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। যদি গলার ব্যথা দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, বিশেষ করে সর্দি বা অ্যালার্জির কোনো লক্ষণ না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।২. কণ্ঠে পরিবর্তন বা ভয়েস হোয়াজনেস: ক্যানসার কণ্ঠনালির কোষ ও আশেপাশের টিস্যুতে প্রভাব ফেলে। ফলে কণ্ঠের স্বর পরিবর্তিত হয়, হোয়াজি বা দুর্বল হয়ে যায়। সাধারণ সর্দির হোয়াজনেসের তুলনায় এটি স্থায়ী এবং ধীরে ধীরে গুরুতর হয়ে ওঠে।৩. গিলতে কষ্ট বা ব্যথা: প্রথম দিকে খাবার খেতে গিলতে গেলে ব্যথা না হলেও সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। ক্যানসারের কারণে খাবার গিলে ব্যথা বা গলায় জ্বালা হতে পারে। সমস্যাটি ধীরেধীরে জটিল হয়।৪. ঘাড়ে ফুলে যাওয়া বা লাম্প: গলার ক্যানসার প্রায়ই ঘাড়ে লাম্প বা লিম্ফ নোডের ফোলাভাব দিয়ে শুরু হয়। অনেকেই এটাখে সংক্রমণ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু ক্যানসারের কারণে লাম্প শক্ত হয়।৫. অপ্রত্যাশিত ওজন কমা ও ক্লান্তি: ক্যানসার গিলে সমস্যা তৈরি হয় এর ফলে আক্রান্ত ব্যতি খাবার কম খান। সময়ের সঙ্গে তার ওজন অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যায় সেই সঙ্গে ক্লান্তি লাগে সবসময়। শরীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশি শক্তি ব্যবহার করে, ফলে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়। যেকোনও উপসর্গ উপেক্ষা করা ঠিক নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করলে চিকিৎসা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তাই গলার ব্যথা, হোয়াজনেস, গিলে সমস্যা, ঘাড়ে লাম্প বা অপ্রত্যাশিত ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ করুন, যা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
