রাজশাহীর বাঘায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার আটঘরিয়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।নিহতের নাম মনিষা খাতুন (১৮)। তিনি ওই গ্রামের আজাদ আলীর স্ত্রী। চার বছর আগে পরিবারের পছন্দে আজাদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মনিষা ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে তাদের আড়াই বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।খবর পেয়ে বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে মনিষার স্বামী আজাদ পলাতক রয়েছেন।মনিষার বাবা মুনসাদ আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের সময় আমি দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছিলাম। কিন্তু দেড় মাস আগে মেয়ের বয়স পূর্ণ হওয়ায় বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে চাইলে আবারও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে ছেলের মামা।’অন্যদিকে ছেলের মামা শহিদুল ইসলাম টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘টাকা নয়, জামাইকে একটি মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে টাকা চাওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।’নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। মেয়েকে আমার সঙ্গে কথাও বলতে দিত না, এমনকি আমাদের বাড়িতেও যেতে দিত না।’মনিষার মামা সাদ্দাম হোসেন জানান, ‘রাত আড়াইটার দিকে বোন ফোন করে জানায় মনিষা গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে ভোরে এসে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে জানাই। শুনেছি, আজাদ কিছুদিন আগে অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। সে মনিষাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলতো।’অন্যদিকে আজাদের মা শরিফা বেগম জানান, ‘সন্ধ্যায় ছেলে-বউ ঝগড়া করে। ছেলে বলে বিষ খেয়ে মরবে, তারপর বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ১১টার দিকে ঘরে গিয়ে দেখি বউ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে।’ দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন।ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবার দাবি করছে, মনিষাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
