চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দিল আরেকটি অমানবিক হামলা। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে চলমান সহিংসতার পেছনের সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে রক্তাক্ত হলেন দুই সাংবাদিক। রবিবার (৫ অক্টোবর) সকালে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।আহত সাংবাদিকরা হলেন, এখন টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি হোসাইন আহমেদ জিহাদ এবং ক্যামেরা পার্সন মো. পারভেজ। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত তুমুল সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে একজন নিহত হন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র।এই ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনের জন্য রবিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক হোসাইন আহমেদ জিহাদ ও মো. পারভেজ। সেখানে উপস্থিত সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক জিহাদ বলেন, ‘আমরা শুধু সত্য জানার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সন্ত্রাসীরা ভয় পেয়েছিল–আমরা যদি সত্য তুলে ধরি, তাদের অপকর্ম প্রকাশ পাবে। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’ সঙ্গী ক্যামেরা পার্সন পারভেজও জানান, তাদের ওপর হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ‘আমাদের কাছে থাকা ক্যামেরা ও ফুটেজ নষ্ট করতেই তারা আক্রমণ করেছে,’ বলেন তিনি।এই হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে নেমে এসেছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, সিএমআরইউসহ বিভিন্ন সংগঠন একযোগে এই হামলার নিন্দা জানায়। তারা বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন শুনে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
