মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে নিউইয়র্কে বৈঠকে বসবেন আজ। গাজা যুদ্ধ শেষ করতে নতুন এক শান্তি পরিকল্পনা সামনে আনবেন তারা। এটি হতে যাচ্ছে জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর নেতানিয়াহুর চতুর্থ হোয়াইট হাউস সফর। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে হতে যাচ্ছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া পরিকল্পনার নথিতে বলা হয়েছে-চুক্তি নিশ্চিত হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় হামাসের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। এরপরই ইসরায়েল আমৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত শত শত ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।যারা এই শান্তি পরিকল্পনায় রাজি হবে, সেই হামাস সদস্যদের দেয়া হবে নি:শর্ত ক্ষমা ও গাজা ছাড়ার নিরাপদ পথ। তবে আগামীর গাজায় কোনো ভূমিকা থাকবে না হামাসের এবং তাদের সব সামরিক কাঠামো ধ্বংস করা হবে। ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনী (আইডিএফ)। এরপর গাজায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠন করা হবে।এসব পদক্ষেপ পর্যালোচনা করলে বলা যায়, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন। এর আগে তিনি গাজার সব বাসিন্দাদের সরিয়ে ফেলার কথা বলেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ‘রিভিয়েরা’ হিসেবে গাজাকে পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সর্বশেষ প্রস্তাবে ফিলিস্তিনিদের গাজায় থাকার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে একটি রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষাও স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তবে শর্ত হলো তাদের মাঝে সংস্কার আনতে হবে।এদিকে, নেতানিয়াহু বরাবরই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। কয়েকদিন আগেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনি ফের বলেন, তারা কখনোই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেবেন না এবং পিএ’কে আখ্যা দেন ‘ভেতর থেকে দুর্নীতিগ্রস্ত’ সংস্থা হিসেবে। ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুকে রাজি করানো গেলেও, তার ডানপন্থি জোট সরকারের চরমপন্থি অংশের সায় আদায় করে নেয়া কঠিন হতে পারে। এদের অনেকেই গাজায় ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং পুনরায় ইহুদি বসতি গড়তে চান। ইসরায়েলের অতিডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সোমবার বলেন, তার দল কোনো পরিকল্পনায় রাজি হবে না যেখানে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ থাকবে বা যেখানে পিএ কোনো ভূমিকা থাকবে।তাই গাজার শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অচলাবস্থায় নতুন বিতর্ক ও আলোচনার দ্বার খুলে দিয়েছে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
