শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় তেলের তীব্র সংকটের মাঝেও সততা ও আদর্শের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুক্তার মিয়া। প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল সংগ্রহ করেছেন।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) উপজেলার হাজী সাইজুদ্দিন ফিলিং স্টেশনে এই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুক্তার মিয়া কোনো প্রকার প্রশাসনিক ক্ষমতা বা পদের প্রভাব ব্যবহার না করে সাধারণ বাইক চালকদের সারিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। শুধু নিজের জন্যই নয়, তিনি তাঁর অধীনস্থ বা পরিচিতদের জন্যও কোনো বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করেননি; বরং ‘সবার জন্য সমান নিয়ম’—এই নীতিতে অটল থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন।এমন দৃশ্য স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত একজন মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, “সাধারণত কর্মকর্তারা প্রভাব খাটিয়ে আগে তেল নিয়ে যান। কিন্তু এই অফিসার লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের মেসেজ দিয়েছেন যে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এভাবে সবাই দায়িত্ব পালন করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমে যেত।”এদিকে, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় তীব্র যানজট ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষও দেখা গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও স্বস্তি মিলছে না।এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার মুক্তার মিয়া বলেন, “আমার বাসা শ্রীবরদী উপজেলায়। প্রতিদিন নালিতাবাড়ী আসা-যাওয়া করতে মোটরসাইকেলে প্রায় ৭৫-৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। অফিসের কাজের জন্য আমারও তেলের প্রয়োজন। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিয়েছি কারণ, আমাকে দেখে যেন অন্যরাও শৃঙ্খলা মেনে লাইনে দাঁড়াতে উৎসাহিত হন। শৃঙ্খলাই এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সাহায্য করবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এ ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও ছড়িয়ে পড়বে এবং জনসেবায় এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
