কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ চক্রের সদস্যরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি উক্ত অপরাধীদের দমন করতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা তাদের চলমান অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তারই ধারাবাহিকতায় টেকনাফে কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা পৃথকভাবে দুটি অভিযান পরিচালনা করে মুক্তিপণের আদায়ের জন্য অপহরণ চক্রের মৃত্যুর ফাঁদে জিম্মি থাকা অপহৃত ৬ ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। এসময় এই মর্মান্তিক অপরাধের সাথে জড়িত অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক প্রেস বার্তার মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত গহীন পাহাড়ী এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারীদের গোপন বন্দি শালা থেকে অপহৃত ৫ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। এসময় অপহরণ চক্রের কোন সদস্যকে আটক করতে না পারলেও উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালের দিকে উক্ত অপরাধে জড়িত অপহরণ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বন্দি শালা থেকে উদ্ধারকৃত ৫ ভিকটিমকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধৃত দুই অপহরণকারীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করার জন্য টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।অপরদিকে একই দিন মঙ্গলবার গভীর রাতের দিকে টেকনাফ থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে দাবিকৃত মুক্তিপণ আদায় করার জন্য অপহরণকারীদের এক মর্মান্তিক মৃত্যুর ফাঁদে জিম্মি থাকা আব্দুল মান্নান (২৫) অপহৃত এক ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে। উক্ত অভিযান চলাকালীন সময়ে অপহরণ চক্রের ৪/৫ জন সদস্য কৌশলে পালিয়ে গেলেও রুবেল নামে এক যুবককে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশের অভিযানিক দল। ধৃত যুবক হচ্ছে গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মো. মোহাম্মদ হাকির পুত্র মো. রুবেল (২৫)।উদ্ধারকৃত ভিকটিম হলেন সাবরাং ইউনিয়নের অন্তর্গত ৬নং ওয়ার্ড গোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাছির আহামদ’র পুত্র আব্দুল মান্নান (২৫)।এবিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানান, উদ্ধারকৃত অপহৃত ভিকটিম আব্দুল মান্নানকে অপহৃত করার পর তার পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। এরপর বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানা পুলিশকে অবহিত করলে অপহরণকারীরা যে নাম্বার থেকে মুক্তিপণ দাবি করছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সেই নাম্বারটি ট্রেকিং করে অপহরণকারীদের আস্তানায় হানা দিয়ে অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অপহরণ চক্রের সাথে জড়িত রুবেল নামে এক যুবককে আটক করতে সক্ষম হয়। তিনি আরও বলেন, অপহরণকারীরা খুবই ভয়ানক। তারা তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ আদায় করার জন্য অপহৃত ভিকটিমকে নির্মমভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি চোখ, মুখ, হাত, পা বেঁধে, গলায় চুরি লাগিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর ভয়াবহতার চিত্র ভিডিও ধারণ করে। আবার সেই ভিত্তি ক্লিপটি ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে মুক্তিপণ দিতে বলে, না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।ধৃত অপহরণকারীসহ এজাহারভুক্ত ৫ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে পুলিশের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
