বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের পাশে মশারি টানিয়ে সারা রাত কাটান তিনি।অনশনরত শিক্ষার্থীরা জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাপ্ত জমি অধিগ্রহণ ও শতভাগ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতকরণের দাবিতে টানা ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় সাত শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেন। রাত একটার দিকে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি না হলে কষ্ট ভাগ করে নিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তাঁদের পাশে রাত কাটানোর। সকাল ৯টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।উপাচার্যের রাতযাপনের ছবি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা এ ঘটনার প্রশংসায় ভাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে। অনেকেই মন্তব্য করেন, এটি যেমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত, তেমনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহসিন হাসান রাকিব বলেন, ‘আমরা বুক ফুলিয়ে বলতে পারি—আমাদের এমন একজন ভিসি আছেন, যিনি শুধু দায়িত্বশীল নন, মানবিকতারও উজ্জ্বল উদাহরণ। শিক্ষার্থীদের পাশে রাত কাটিয়ে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।’মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহম্মেদ মুন্না তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যিনি শিক্ষার্থীদের সাথে গ্রাউন্ড ফ্লোরে একসাথে ঘুমাচ্ছেন দাবি আদায়ের জন্য, এমন দৃশ্য বাংলাদেশে বিরল। এমন একজন উপাচার্য পেয়ে আমরা সত্যিই গর্বিত।’শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এ বিরল দৃশ্য এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পরও কার্যকর উদ্যোগ না আসায় শেষ পর্যন্ত সাত শিক্ষার্থীকে আমরণ অনশনে বসতে হয়। আর সেই অনশনের মঞ্চেই ভিসির রাতযাপন এখন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা হয়ে রইল।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
