জমিসহ পারিবারিক ও অর্থ বিরোধের জেরে নেত্রকোনায় দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরও তিনজন আহত রয়েছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য দোজাহান মিয়া (৫৫), নুর মোহাম্মদ (২৯) ও রফিক (৪২)। আহত মনোয়ারাসহ তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ চলছিল সাবেক ইউপি সদস্য দোজাহান ও রফিকের মধ্যে।গত শনিবার জেলা বিএনপির কাউন্সিল শেষে রাতে বাড়ি ফিরছিলেন দোজাহান। পথিমধ্যে জামাটি বাজারের পাশে নবী হোসেন ডাক্তারের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার ওপরে অতর্কিতভাবে দোজাহানের ওপর হামলা চালায়।খবর পেয়ে দোজাহানের স্বজন সমর্থকরা রফিকের বসত বাড়ি গিয়ে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় ৫ জন আহত হয়। উদ্ধার করে তাদের নেত্রকোনা হাসপাতালে নিয়ে আসলে দোজাহান ও নুর মোহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এদিকে তিনজনকে ময়মনসিংহ পাঠালে রফিককে ময়মনসিংহে মৃত ঘোষণা করে বলে লোকমুখে শোনা যাচ্ছে।পুলিশ জানায়, জেলা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য দোজাহান মিয়ার সাথে একই এলাকার রফিক মিয়ার পূর্ব বিরোধ ছিল। এর জের ধরে রফিক মিয়ার লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে উৎপেতে থাকে। পরে জেলা বিএনপির কাউন্সিল থেকে দোজাহান বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষ রফিকের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করে। পরে খবর পেয়ে রফিকের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায় দোজাহান মেম্বারের লোকজন। সেখানে চারজনকে আহত করলে আহতদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে নুর মোহাম্মদ নামে আরও একজন মারা যায়।তবে নেত্রকোনা পুলিশ জানায়, দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে দোজাহানের স্ত্রী বর্তমান ইউপি সদস্য জসুমা খাতুন জানান, তার স্বামীর সাথে টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল। “আমার স্বামী টাকা পেতো। চাইতেই তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।”অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কান্তি সরকার জানান, লাশ এখনো ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
