পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার রাজাপুর, ছিটকা, পাঙাশিয়া ও ইন্দ্রকুল এই ৪ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের প্রধান কারণ মাত্র ১ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আগে স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত এই মাটির সড়কটি এখন ভেঙে পড়ার অবস্থায়। বর্ষাকালে কাদা-পানিতে তলিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ব্যহত হচ্ছে পড়াশোনা, চিকিৎসা, সামাজিক অনুষ্ঠানসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।সরজমিন দেখা গেছে, সড়কটি উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ফকিরবাড়ি থেকে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বিস্তৃত। দৈর্ঘ্যে প্রায় এক কিলোমিটার এই সড়কটি দিয়ে চার গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। বিশেষ করে রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা এবং ১২০ নম্বর উত্তর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন প্রতিদিন।রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে খাদিজা বলেন, ‘বর্ষায় হাঁটু সমান কাদা হয়ে যায়। প্রায় সময়ই আমরা পড়ে গিয়ে আহত হই। মাদ্রাসায় নিয়মিত যাওয়া যায় না। এই রাস্তাটি আমাদের জন্য খুব দরকার।’১২০ নম্বর উত্তর রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মাশরাফি বলেন, ‘বৃষ্টির হলে স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় যাওয়া হয় না। রাস্তা পাকা হলে আমরা প্রতিদিন যেতে পারতাম।’স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া (৫৫) বলেন, ‘এই রাস্তায় কোনো যানবাহন চলতে পারে না। কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে ভোগান্তির শেষ নেই। বর্ষাকালে এই গ্রামের বিয়ে-শাদি বা দাওয়াত পর্যন্ত বন্ধ থাকে।’আরেক বাসিন্দা আব্বাস হোসেন (২৭) জানান, ‘৪০ বছরের পুরোনো এই রাস্তা। অনেক এমপি, চেয়ারম্যান এসে আশ্বাস দিয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে কিছু হয়নি। ফলে বছরের পর বছর মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।’রাজাপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আজাহার উদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। তখন এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে মাটি দিয়ে সড়কটি তৈরি করে। বর্ষায় কাদা আর পানিতে জমে যাওয়া এই রাস্তা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য রাসটি দ্রুত পাকা করা হোক।’পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বাউফলে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। সেগুলোর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। রাজাপুর মাদ্রাসার পাশের এই সড়কটি গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পটুয়াখালী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবো।’এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
