যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বক্ষব্যাধি চিকিৎসকের পদ নেই। রোগী এলে রোগের বর্ণনা শুনে ব্যবস্থাপত্র লিখছেন মেডিকেল অফিসার। ফলে দেশসেরা সরকারি এই হাসপাতালে বক্ষব্যাধির মতো জটিল রোগীরা এসে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দায়সারা চিকিৎসা নিয়ে ফিরছেন বাড়ি।হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এখানে বক্ষব্যাধি চিকিৎসকের কোনো পদ নেই। বিগত দিনে বক্ষব্যাধি বিভাগে ডা. জিজি কাদরী সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করতেন। কিন্তু ৫ বছর আগে তিনি অবসরে গেছেন। ফলে বর্তমানে শ্বাসকষ্ট ও কাঁশিতে আক্রান্ত রোগীরা আসলে প্রথমে মেডিকেল অফিসার রোগের বর্ণনা শোনেন। রোগীর অবস্থা জটিল না মনে করলে তিনি (মেডিকেল অফিসার) ব্যবস্থাপত্র দেন। রোগের বর্ণনা জটিল মনে হলে মেডিকেল অফিসার মেডিসিন কনসালটেন্টের কাছে রেফার্ড করেন।ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুবিতপুর গ্রামের আনিকা জানান, তার মায়ের শ্বাসকষ্ট ও কাঁশি নিয়ে এক মাসে ৩ বার হাসপাতালে এসেছেন। প্রতিবারে চিকিৎসক ওষুধ লিখেছেন। ওষুধ খাওয়ার পর তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে রোগের সেই ডাক্তার না হলে রোগ সারবে কীভাবে’।আরেক রোগী রাহাদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীরা আসেন। সেখানে বক্ষব্যাধি চিকিৎসক না থাকা দুঃখজনক। সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরসহ আশেপাশের জেলার রোগীরা আসেন। দেশসেরা এই হাসপাতালে বক্ষব্যাধি চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বর্হিঃবিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে রোগীরা বাড়ি ফিরছেন।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, হাসপাতালে বক্ষব্যাধি চিকিৎসকের পদ নেই। বিগত দিনের কর্মকর্তারা বক্ষব্যাধি কনসালটেন্ট পদ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতপত্র পাঠিয়েছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তিনিও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করবেন। এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
