বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে ভয়াবহ কনটেইনার স্ক্যানার সংকটে ভুগছে। নয়টি স্থাপনকৃত স্ক্যানারের মধ্যে পাঁচটি দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। ফলে আমদানি কনটেইনার ডেলিভারিতে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ ও আর্থিক ক্ষতির বোঝা বাড়ছে।২০০৯ সালে স্থাপিত চারটি স্ক্যানার বহুদিন আগে অচল হয়ে গেছে। বর্তমানে সেগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। অন্যদিকে একটি স্ক্যানার গত ১৫ দিন ধরে যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের কারণে বন্ধ রয়েছে। গত ১৭ আগস্ট একসঙ্গে চারটি স্ক্যানার বিকল হয়ে গেলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। এতে বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে এবং বেসরকারি অফডকগুলোতেও চাপ বাড়ে।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে চীনা প্রতিষ্ঠান নাকটেক কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ছয়টি অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার সরবরাহের জন্য চুক্তি করে। প্রকল্পে ব্যয় হয় ১৪৭ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, স্ক্যানারগুলো স্থাপনের পর পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও চীনা প্রতিষ্ঠানটির। তবে প্রায় দুই বছর আগে স্ক্যানারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও এখনো একটি মেশিনও চালু করা যায়নি।চট্টগ্রাম সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য সরওয়ার আলম খান সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘স্ক্যানার সংকটের কারণে পণ্য সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হচ্ছে। ফলে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অতিরিক্ত স্টোরেজ ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং কারখানার উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো এসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘বর্তমানে মাত্র তিন থেকে চারটি স্ক্যানার সচল আছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা ৭০ শতাংশ কমে গেছে। প্রতিদিন তিন হাজার রপ্তানি পণ্য ও খালি কনটেইনার আনতে পারলেও আমদানি করা যাচ্ছে মাত্র এক হাজার কনটেইনার। অথচ সব স্ক্যানার সচল থাকলে প্রতিদিন চার হাজার কনটেইনার ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হতো।’চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘কনটেইনার স্ক্যানিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অধীনে। আমরা সমস্যার কথা জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।’চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচএম কবির জানান, ‘একটি স্ক্যানার মেরামতের পর্যায়ে আছে এবং পুরোনো ইউনিট প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। আমরা আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে দুটি নতুন স্ক্যানার চালু করেছিল। তবে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তরের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পরে গত ২ মে সীমিত আকারে রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যানিং কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।বর্তমানে বন্দরের ১২টি গেটের মধ্যে নয়টিতে স্ক্যানার রয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-এ স্থাপিত আধুনিক স্ক্যানারগুলো নিয়মিত ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের এ সংকট শুধু বাণিজ্যে বিঘ্ন নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্যও হুমকিস্বরূপ। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
