ময়মনসিংহের ১১৭ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যক্ষ পদ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে টানাপোড়েন। সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সম্প্রতি নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন অস্থিরতা। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে।গত ১৮ আগস্ট আন্দোলনকারীদের চাপে সাদা কাগজে মুচলেকা দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সাকির হোসেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।এর আগে গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সাবেক অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। ওই সময় দীর্ঘদিন কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ছিল। একের পর এক অবরোধ ও মানববন্ধনের কারণে একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ পদ নিয়ে বারবার টানাপোড়েনের কারণে তাদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেশনজট তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রতিবারই অধ্যক্ষ নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। আমরা পড়াশোনা করতে আসি, কিন্তু রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আমাদের ভবিষ্যৎ আটকে যাচ্ছে।’ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবুল হোসেন বিনয় বলেন, ‘বারবার মব সৃষ্টি করে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসুক।’শিক্ষাবিদদের মতে, অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে গভর্নিং বডির প্রভাব, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।অধ্যক্ষ লে. কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এক চিঠিতেই এ সংকট নিরসন করা সম্ভব, অথচ তা করা হচ্ছে না। যদি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হয়, তবে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়বে।’তবে সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাকির হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আমার শিক্ষা জীবন এবং কর্মজীবনে কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমার ছোট ভাই বাকির হোসেন শহীদ সাগর হত্যা মামলার আসামী নয়, তাকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়, তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবী নেই।’শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যক্ষের চেয়ার ঘিরে দ্বন্দ্ব নয়, বরং পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। আর ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে জাতীয় মানের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
