ভোলার বোরহানউদ্দিনে ভুল চিকিৎসার শিকার সেই শিশু তানভীর হাসান (৮) আর নেই। টানা ৪ মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যু কাছে হার মেনে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।শুক্রবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তানভীরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় পরিবারে চলছে শোকের মাতম।এর আগে, স্থানীয় এক ফার্মেসীর চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন শিশু তানভীর। এরপর চিকিৎসকরা শিশুটিকে বাঁচাতে তার চার হাত-পা কেটে ফেলেন। কিন্তু তাতেও লাভ হলো না। মৃত্যুই যেন ঘিরে রেখেছিল শিশু তানভীর হাসানের জীবনকে।তানভীর বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুল কাচিয়া গ্রামের কৃষক মোসলেম মিয়ার ছেলে। সে চরমোনাইয়ের একটি মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গেল ২২ এপ্রিল জ্বরজনিত কারণে বোরহানউদ্দিনে স্থানীয় এক ফার্মেসীর চিকিৎসকের কাছে তানভীরকে নিয়ে গেলে তিনি ডেঙ্গু হয়েছে জানিয়ে শিশুটির শরীরে ৪টি এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করেন। এর কিছু সময় পর শিশুটির হাত-পা সহ শরীরে কালো বিচি উঠতে থাকে। পরে, এলার্জির সমস্যা হয়েছে বলে আরও একটি ইনজেকশন পুশ করেন। এতে শিশুটির শরীরের হাত ও পায়ে কালো বিচি উঠে চামড়া ফুলে অস্বাভাবিক হয়ে যায়।পরে তানভীরের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর বরিশাল হাসপাতালে তাতেও উন্নতি না হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবং সেখানে তাকে বাঁচাতে তার চার হাত-পা কেটে ফেলা হয়েছিল।এদিকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ওই শিশুর পরিবার চিকিৎসক ও ফার্মেসী মালিকের বিরুদ্ধে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে, গেল ১৯ জুলাই দুপুরে পুলিশ ওই চিকিৎসককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাব-এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) হিসেবে কর্মরত আছেন। এর পাশাপাশি তিনি ফার্মেসীতে রোগী দেখতেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক শফিকুল ইসলামতানভীরের বাবা মোসলেম মিয়া জানান, সব সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলের পিছনে ব্যয় করেছি। তাতেও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার ছেলেকে শফিকুল ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলেছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসক শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হলেও এখনো গ্রেফতার করা হয়নি ফার্মেসী মালিক আকিব হোসেনকে।এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, শিশুটি মারা গিয়েছে শুনেছি। শিশুটির পরিবারের দায়ের করা মামলায় আগেই চিকিৎসক শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও ফার্মেসী মালিক হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে আসায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে, এখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
