ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) থেকে শুরু হওয়া এ মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে “সাসটেইনেবল পাওয়ার ১৪০৪”। এতে গালফ অব ওমান ও ভারত মহাসাগরে ইরানি নৌবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অনুশীলন করেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মহড়ায় অংশ নেওয়া নৌযানগুলো সমুদ্রে লক্ষ্যভেদে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে পানিতে সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। তবে এখনও মহড়ার কোনও আনুষ্ঠানিক ভিডিও প্রচার করেনি রাষ্ট্রীয় টিভি।এমন ধরনের সামরিক মহড়া ইরান নিয়মিত আয়োজন করলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কেননা, গত জুনে হামলা চালিয়ে ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নিজেদের শক্তি ও প্রস্তুতি দেখাতেই এ মহড়া আয়োজন করেছে তেহরান।প্রসঙ্গত, প্রায় ১৮ হাজার সদস্য নিয়ে বন্দর আব্বাস শহরে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটি দক্ষিণের অবস্থিত। এ বাহিনী সাধারণত গালফ অব ওমান, ভারত মহাসাগর ও কাস্পিয়ান সাগরে টহল দেয়। তবে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত এলাকা মূলত নিয়ন্ত্রণ করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। পশ্চিমা দেশগুলোর জাহাজ আটকানো এবং মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এ গার্ডের নৌবাহিনী বিশেষভাবে পরিচিত।মহড়ার প্রাক্কালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান তাদের সেনাদের নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, ‘কোনও শত্রুপক্ষ যদি অভিযানে নামে, আমাদের বাহিনী এসব নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত।’এদিকে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক পারমাণবিক জ্বালানি সংস্থার (আইএইএ) সাথে সম্পর্ক স্থগিত করেছে ইরান। তাছাড়া দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অস্ত্রমান পর্যায়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ৩১ আগস্টের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান না হলে তারা জাতিসংঘে “স্ন্যাপব্যাক” প্রক্রিয়া চালু করবে। অর্থাৎ, ইরানের ওপর আগে প্রত্যাহার করা সব নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর হবে।উল্লেখ্য, ইরান ২০১৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ফের কার্যকর হলে দেশটির অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়বে।সূত্র: রয়টার্স
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
