সুইডেনের উত্তরাঞ্চলের কিরুনা শহরের ১১৩ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কাঠের গির্জা স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় খনি থাকার কারণে ভূমিধস ও ফাটলের ঝুঁকি এড়াতে পুরো গির্জাটিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।বুধবার (২০ আগস্ট) একটি অস্বাভাবিক রোড ট্রিপে গির্জাটি তার নতুন স্থানে পৌঁছাতে যাত্রা শুরু করে।১৯১২ সালে নির্মিত ৬৭২ টন ওজনের, ৩৫ মিটার উঁচু ও ৪০ মিটার চওড়া লাল রঙের এই গির্জাটি ইতিমধ্যে বিশেষ ধরনের বিশাল রোলিং প্ল্যাটফর্মে তোলা হয়েছে। আকর্ষণীয় দৃশ্যটি সুইডিশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করছে। জানা গেছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গড়ে ৫০০ মিটার গতিতে এটি অগ্রসর হবে এবং নতুন স্থানে পৌঁছাতে বেশ সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।লৌহ আকরিক খনির সম্প্রসারণের কারণে কিরুনা শহরের বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেয়। এর ফলে ধীরে ধীরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা স্থানান্তর শুরু হয়। তবে গির্জার এই স্থানান্তরই সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।গির্জার ভেতরে থাকা মূল্যবান শিল্পকর্ম, যেমন প্রিন্স ইউজিনের আঁকা বিরল চিত্রকর্মও সুরক্ষিতভাবে গির্জার ভেতরেই স্থানান্তরিত হচ্ছে। সুইডেনের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা হিসেবে একসময় নির্বাচিত এই গির্জা স্থানীয়দের কাছে শুধু স্থাপত্য নয়, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীকও।এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় .৫ বিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে লোহার খনির অপারেটর ‘এলকেএবি’। গির্জার প্রধান যাজক লেনা চার্নব্যার্গ বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, স্মৃতির ভাণ্ডার। পুরোনো জায়গা ছাড়ার বেদনা থাকলেও ভবিষ্যতের দিকে এটি এগিয়ে যাচ্ছে।’এত সূক্ষ্ম কাঠামো স্থানান্তর করা সহজ কাজ নয়। সুইডিশ এক প্রতিবেদন বলছে, সাড়ে ৬০০ টনেরও বেশি ওজনের ভবনটি বিম ও জ্যাকের সাহায্যে উপরে তোলা হয়, তারপরে স্থাপন করা হয় দুটি লম্বা চাকাযুক্ত ট্রেলার। স্নানাত্তরের সুবিধার্থে এর পথের রাস্তাগুলো প্রায় ১৩০ ফুট প্রশস্ত করা হয়।খুব ধীরে ধীরে প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে স্থান পরিবর্তন করছে ধর্মীয় এই স্থাপনাটি। সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হচ্ছে রাষ্ট্রীয় টিভিতেও। রাস্তার দুই ধারে গির্জার এই যাত্রা প্রত্যক্ষ করছেন হাজার হাজার মানুষ। এক শিক্ষিকা রয়টার্সকে বলেন, ‘এত বড় একটা ভবন সরানো অসম্ভব ও আশ্চর্যজনক কিন্তু একই সাথে এটাও একটু দুঃখজনক যে এই সুন্দর জায়গাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে গির্জাটি।’সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও বিবিসিএবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
