ঘুষ দাবি, হেনস্তা এবং ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি, বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলার ১৪টি কৃষকদের পার্টনার ফিল্ড স্কুলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা সহ কৃষকদের সেশনের প্রাপ্য নাস্তা ও সম্মানি বাবদ পাওনা টাকা নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠা কালিয়া উপজেলার কৃষি অফিসার ইভা মল্লিককে বদলি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: ছাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ইভা মল্লিককে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চিঠিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়, আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন, অন্যথায় পরদিন ২৮ আগস্ট থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, হেনস্তা এবং ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার মহাজন বাজারের বিএডিসি অনুমোদিত সার বীজ ডিলার শেখ জামিল আহম্মেদ। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর প্রথম দফায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) উপজেলা কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তিন সদস্য বিশিষ্ট দল কালিয়ায় যান।এর পর অভিযুক্ত কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার ইভা মল্লিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলার ১৪টি কৃষকদের পার্টনার ফিল্ড স্কুলগুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা সহ কৃষকদের সেশনের প্রাপ্য নাস্তা ও সম্মানি বাবদ পাওনা টাকা নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ ওঠে। আর গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ওই কর্মকর্তার অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয় তার অনিয়মের বিভিন্ন বক্তব্য, আর জন্ম দেয় তীব্র সমালোচনার। এর আগে, গত ৭ জুলাই দুদকে ওই কর্মকর্তার ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ এনে স্থানীয় এক সার ও বীজ ডিলার অভিযোগপত্র দেন।এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পরে গত রোববার (৩ আগস্ট) দ্বিতীয় দফায় উপজেলা কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ পত্রে আনীত অভিযোগ তদন্তে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দুই সদস্য বিশিষ্ট দল উপজেলার মহাজন বাজারে যান। এর ঠিক ১৬ দিন পর অভিযুক্ত কৃষি অফিসারকে বদলি করা হয়।এ বিষয়ে কৃষি অফিসার ইভা মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
