অবশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার ফজলে রাব্বি ইশানের বিরুদ্ধে, যিনি অনুনয়-অনুরোধ উপেক্ষা করে মামলার আসামিপক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। সময়ের কণ্ঠস্বর-এ বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং পুলিশ প্রশাসন তাকে ক্লোজড করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চকরিয়া থানায় একটি মামলায় জড়িত এক ব্যক্তি মুক্তি পাওয়ার আশায় সেকেন্ড অফিসারের কাছে যান। তিনি একাধিকবার অনুনয় করে নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানান- কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে নগদ টাকা দাবি করেন ফজলে রাব্বি ইশান।ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, থানার নিজ কক্ষে বসে আসামিপক্ষের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করছেন ইশান। টাকা দেওয়ার সময় ভুক্তভোগী বারবার বলছিলেন, ‘স্যার, আমি গরীব মানুষ, টাকা কম নেন।’ এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।’স্যার, আমি গরীব মানুষ, টাকা নেন’ শিরোনামে সময়ের কণ্ঠস্বর-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ঘুষের এই ঘটনা এবং দীর্ঘদিন ধরে ইশানের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি মামলার আসামি, জামিনপ্রার্থী ও বাদী-পক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ‘রেট লিস্ট’ অনুযায়ী টাকা আদায় করতেন এবং এই অর্থের একটি অংশ থানার ওসিকেও পৌঁছে দিতেন। চার্জশিট পরিবর্তন, আসামির নাম বাদ দেওয়া, ওয়ারেন্ট কার্যকর না করা ইত্যাদি সুযোগের জন্যও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিযিত দাশ জানান- তদন্তের স্বার্থে সেকেন্ড অফিসার ফজলে রাব্বি ইশানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।জেলা পুলিশের মুখপাত্র জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, এটি সঠিক পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও শুধু ক্লোজ করাই যথেষ্ট নয়। তারা দাবি করেছেন- ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে কঠোর আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন ঘটনা আর না ঘটে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
