বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা দূরীকরণ ও সংস্কারের দাবিতে টানা ১৫তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে ছাত্র-জনতা। সোমবার (১১ আগস্ট) বেলা ১১টায় বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। একই দাবিতে সকাল ১০টায় হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে শিক্ষার্থীদের একাংশ আমরণ অনশন শুরু করেছে।অবরোধে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও, আগের দিনের তুলনায় সোমবার যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জানা গেছে, কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী বাসগুলো সিএন্ডবি রোডের চৌমাথা হয়ে নবগ্রাম রোড দিয়ে ঘুরিয়ে কাশিপুর চৌমাথা থেকে আবার হাইওয়েতে সংযুক্ত করা হচ্ছে। বিকল্প রুটে যাতায়াত করায় বাসগুলোকে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে এসে তদন্ত করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আল্টিমেটামের সময় বিকাল ৪টায় শেষ হয়েছে কিন্তু স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আসেনি। তাই আমরা আবারো সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি জানিয়ে দিবো। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তোলা হবে এবং কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’অপরদিকে বেলা ১১টায় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিচালক এ কে এম মশিউল মুনীর। সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তার নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জানান, ‘স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সচিব ও মহাপরিচালকের সঙ্গে তার একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা সবাই পজিটিভ। দাবি পূরণের ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া আমি আপনাদের কাছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩ মাস সময় চাই।’শেবাচিমের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘আমার মূল কাজ হলো হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো, রোগীকে সন্তুষ্ট করা। হাসপাতালটি আমাদের সবার, এই হাসপাতাল চালাতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, ‘আমার মূল কাজ হলো হাসপাতালের সেবার মান বাড়ানো, রোগীকে সন্তুষ্ট করা। সেক্ষেত্রে আমি ডিসেম্বরে এখানে যোগদান করার পর থেকেই এখানে সেবার মান বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছি।’সড়কে অবরোধের বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির শিকদার বলেন, ‘ছাত্র-জনতার ব্যানারে বাস টার্মিনালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করা হচ্ছে। এতে ঢাকা থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলা পথের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীবাহী বাস নগরী দিয়ে পার করে দেওয়া হচ্ছে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
