পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, ভ্যাসলিনের কৌটায় এসিড মিশিয়ে মুখে ঢেলে তাকে বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।ভুক্তভোগী ও তার পরিবার জানায়, উপজেলার হাজিপ্রধানপাড়া মোস্তফাপুর এলাকার মিঠু ইসলামের স্ত্রী লিমা আক্তার (১৯) দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় লিমার বাবার কাছ থেকে নগদ চার লাখ টাকা ও এক ভরি স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়। বিয়ের পর লিমা বুঝতে পারেন যে তার স্বামী মাদকাসক্ত। কোন কারণ ছাড়াই প্রায় সময় তাকে মারধর করা হতো।অতিরিক্ত নির্যাতনের কারণে লিমা দুই মাস আগে বাবার বাসায় চলে আসেন। সম্প্রতি মিঠু লিমাকে নিয়ে যেতে আসে এবং ভবিষ্যতে আর কোন অভিযোগ আসবে না বলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর লিমার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়।লিমা আক্তারের অভিযোগ, গত ২ আগস্ট রাতে স্বামী মিঠু ইসলাম, শ্বশুর মফিজুল ইসলাম, শাশুড়ি রুবি বেগম ও ননদ বিউটি আক্তার মিলে তাকে মারপিট করেন। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। শুধু তাই নয়, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্বামী মিঠু ইসলাম নতুন ভ্যাসলিনের কৌটা এনে দেন। ভ্যাসলিনের কৌটা থেকে সামান্য ভ্যাসলিন ঠোঁটে লাগানোর পরেই লিমার তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়। এই ঘটনায় পরে স্বামী ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান। লিমা অভিযোগ করেন, তার পুরো চেহারা যেন পুড়ে যায় সেই পরিকল্পনা ছিল মিঠুর। মুখমণ্ডলে ভ্যাসলিন লাগালে ঠোঁটের মতো পুরো মুখে ক্ষত হতো।পরদিন সকালে লিমা তার বাবার বাড়ি চলে আসেন। স্থানীয় চিকিৎসকের প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে ৪ আগস্ট বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।এইদিকে প্রথমে ভ্যাসলিনে এসিড মেশানোর বিষয়টি উল্লেখ করে থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ তা বাদ দিয়ে মারধরের ঘটনায় আহত হয়েছেন উল্লেখ করার পরামর্শ দেয়। ভুক্তভোগী ও পরিবারের লোকজন সহজ-সরল হওয়ায় পরে এজাহার বদলে মারধরের ঘটনা উল্লেখ করে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, মেয়েটির যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তাতে সেটি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের জন্য হতে পারে।অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবীগঞ্জ থানার এসআই হারুন অর রশিদ বলেন, এই বিষয়ে ওসি স্যার সব জানেন। আপনি তার সাথে একবার কথা বলেন।দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানাকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
