গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এক নারীসহ ৩ আসামীকে গ্রেফতার করেছে মহানগর পুলিশ। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দা, ছুড়ি ও চাপাতি হাতে যাদের দেখা গেছে, গ্রেফতারকৃত দুইজন তাদের মধ্যে ছিল।গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে, ঘটনার শুরুতে ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে, সেই নারী গোলাপী। এছাড়া ফুটেজে চাপাতি হাতে (দাড়িওয়ালা এবং মাথায় ক্যাপ পড়া) কোপানোর জন্য যাকে দৌড়াতে দেখা যায়, সেই ব্যক্তি ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান। অপরজন ফুটেজে যাকে সাদা শার্ট ও জিনসের প্যান্ট পড়া চাপাতি হাতে দাড়ানো অবস্থায় দেখা যায়, সে যুবক স্বাধীন। তাদের মধ্যে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান ও গোলাপী স্বামী-স্ত্রী।তাদেরকে শুক্রবার আলাদা সময়ে মহানগরীর সদর থানা মেট্রো থানার সালনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল।শুক্রবার(৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) তাহেরুল হক চৌহান।তিনি বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছিল। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার পর আসামিদের শনাক্ত করা এবং তাদের অবস্থান জানার জন্য চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, তদন্তের সাথে আরো অনেক কিছু এখন বলা যাচ্ছে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করা যায়, জড়িত সকলকে দ্রুতই গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।প্রসঙ্গত, গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে একটি মার্কেটের ভিতর প্রকাশ্যে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
