ওজনে কারচুপির অভিযোগে কক্সবাজারের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলাজুড়ে আলোচিত এই অভিযানে বাদ পড়েনি নামি ফিলিং স্টেশন কিংবা স্বর্ণ বিক্রেতারা। ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের একের পর এক অভিযোগ এবং ত্রুটিপূর্ণ ওজন পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে নামে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)। বৃহস্পতিবার সকালে পরিচালিত অভিযানে বেরিয়ে আসে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ।অভিযানে নেতৃত্ব দেন কউকের সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা বেগম। তিনি জানান, সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪টি ফিলিং স্টেশন ও ৩টি স্বর্ণ দোকানে অভিযান চালিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে ওজনে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইনে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল- তারা ইচ্ছাকৃতভাবে যন্ত্রে কারচুপি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে কম মাপে জ্বালানি বা স্বর্ণ সরবরাহ করছে। অভিযানের সময় একাধিক যন্ত্রে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে। ফিলিং স্টেশনের পরিমাপক যন্ত্র থেকে শুরু করে স্বর্ণ দোকানে ব্যবহৃত ডিজিটাল মেশিন- সবকিছুই ছিল সন্দেহের তালিকায়।প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে ওজন পরিমাপক যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে ক্যালিব্রেট বা মেরামত করে নেওয়ার জন্য। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি না করলে পরবর্তীতে পুনরায় অভিযান চালিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা বেগম।তিনি বলেন, ‘ওজনে কারচুপির মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা কখনও বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।’অভিযানে ধরা পড়া স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এক সপ্তাহ সময় চেয়ে প্রশাসনের কাছে প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা ওই সময়ের মধ্যে ওজন পরিমাপক যন্ত্র ঠিক করবে। তবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে তাদেরকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে- পরবর্তীতে এমন অনিয়ম ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে, বুধবার কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ৯টি ফার্মেসিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে এসব ফার্মেসিকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওজন কারচুপি কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি- উভয়ই ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়া এসব অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়।স্থানীয় বাসিন্দারা এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘বাজারে প্রতারণা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এতদিন কেউ তেমন নজর দেয়নি। এখন যদি নিয়মিত এভাবে অভিযান চালানো হয়, তাহলে ভোক্তার অধিকার রক্ষা হবে।’কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা সঠিক ওজন পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করবে না বা মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
