নাটোরের বড়াইগ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ১১টি দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আহম্মেদপুর বাজারে এই ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় থানায় চাঁদা দাবি ও দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।গ্রেপ্তাররা হলেন- বড়াইগ্রাম উপজেলার আহম্মেদপুর গ্রামের মৃত বন্দে আলী মিয়ার ছেলে মুজিবুর রহমান (৬৫), তার ছেলে জোয়াড়ী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি রুহুল আমিন (৪৫), তার ভাই বিএনপির কর্মী হায়দার আলী (৪৮) ও জামায়াত কর্মী আজিমউদ্দিন (৪০)।স্থানীয়রা জানান, আহম্মেদপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের সাথে প্রতিপক্ষ নওপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, কোরবান আলী, শাহ আলম ও মোতালেব হোসেনের ৬ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবেও একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। সোমবার এ বিষয়ে আবারও বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবুর রহমানের ছেলেরা বিবাদমান জমিতে থাকা ১১টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করেন এবং তালা খুলে দেন।নওপাড়া গ্রামের শাহ আলম বলেন, ‘আমরা ক্রয় সূত্রে এ জমির মালিক। জমি কিনে সেখানে আমরা দোকান করেছি। কিন্তু তারা এ জমি তাদের বলে দাবি করে দোকানে তালা দিয়েছে। পরে বিকেলে সেনাবাহিনী ও বড়াইগ্রাম থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।’অপর ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দোকানের দখল না পেয়ে তারা আমাদের কাছে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা চেয়েছে। আমরা তা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা দোকানে তালা দিয়েছে।’এদিকে গ্রেপ্তারের আগে জামায়াত নেতা রুহুল আমিন বলেন, ‘ওই জমি আমাদের। তারা ২২ শতক জমি কিনেছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ৬ শতকসহ পুরো জমি দখল করে রেখেছেন। আমাদের অংশের জমি ছাড়তে বললেও তারা ছাড়ছেন না। জমি না ছাড়লে দোকানের ভাড়ার টাকা দিতে বলেছিলাম, চাঁদা নয়। এ বিষয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি। তবে এভাবে দোকানে তালা দেওয়া আমাদের ঠিক হয়নি।’বিএনপির কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে জমির সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপির কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়। কিন্তু তারা (দোকানিরা) এ কমিটির কথাও মানেন না। তাই আমরা আমাদের জমি দখল করেছি।’বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ও অপর পক্ষ রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছেন। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।’বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক গোলাম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় দোকানি জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দোকানে তালা দেওয়া ও চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
