খাল-বিল আছে, আছে নদী-নালাও। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে এগুলোতে পাট জাগ (পঁচানো) দেয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার প্রান্তিক পাট চাষিরা। পানি না থাকায় জমিতেই কাটা পাট শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে বৃষ্টির আশায় পাট কাটতেও দেরি করছেন। যারা কেটেছেন, তাদের অনেকেই দুই-তিন কিলোমিটার ফাঁকে যেখানে অল্পবিস্তর পানি আছে, সেখানে গাড়ি অথবা কাঁধে করে পাটগাছগুলো নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে।কাজীপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে চরাঞ্চলসহ উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ মৌসুমে ৪ হাজার দুইশ পঞ্চাশ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা জাতের চাষ হয়েছে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে। মেস্তা ৭৫ হেক্টর ও দেশীসহ অন্যান্য জাতের পাট চাষ হয়েছে ৭৫ হেক্টর জমিতে। কৃষকদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার পাটবীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে কৃষি অফিস থেকে।অনুকূল আবহাওয়া আর উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। এতে খুশি কৃষকেরা। তবে পানির অভাবে পাট জাগ দেয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।সরেজমিন দেখা গেছে, সুপুষ্ট পাট গাছ কাটার উপযুক্ত হয়েছে। অনেকেই আবার কেটে মাটিতে রেখেছেন। পানির অভাবে জাগ দিতে পারছেন না। আবার অনেকে দুই-তিন কিলোমিটার ফাঁকে শ্রমিক দিয়ে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন জাগ দিতে। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে চাষিদের।চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ীর কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর নদীর কোলা, জলাশয় বা নিচু জমিতে পানি থাকতো। সেখানে জাগ দিতাম। কিন্তু এবার পানি নাই। শ্রমিক দিয়ে দুই কিলোমিটার ফাঁকে পাট নিয়ে যাচ্ছি নদীতে জাগ দিতে। এতে অনেক খরচ বাড়ছে।’মাইজবাড়ির চাষি আয়নাল হক বলেন, ‘আগে আমাগোরে বেড়াডাঙ্গা বিল, জাইরাবিল, নালিচরা এহিন দিয়ে পানি থাইকতো। ওই পানিতে পাট জাগ দিছি। কিন্তু এইবার কুনু জাগাতে পানি নাই। কামলা নিয়ে এক মাইল দূরে এক পাগারে জাগ দিছি।’মাথাইলচাপড় গ্রামের চাষি শাহজাহান বলেন, ‘দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ভালোই হয়েছে ফলন। পাট কাটার সময় হয়েছে। কিন্তু জাগ দেয়ার জায়গা নাই। তাই কাটতে দেরি করতেছি, যদি বৃষ্টি হয়ে খালে পানি ধরে ওখানে জাগ দিবো।’স্থলবাড়ি গ্রামের বর্গাচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বিঘা জমির পাট কেটে পুকুরে জাগ দিয়েছিলাম। সেগুলো শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করেছি। প্রতিমণ ৩ হাজার ৮শ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এবার দাম ভালো আছে। আরও এক বিঘার পাট কেটে জমিতেই রাখছি।’কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি নেই বিধায় জাগ দিতে কৃষকের খরচ বেড়েছে। এটা সাময়িক সমস্যা। তবে পানি না থাকলে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে পাটের আঁশ সংগ্রহ করা যায়। এতে কম খরচে এ গ্রেডের আঁশ পাওয়া যায়। দামও বেশি পাওয়া যাবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
