দেশের অন্যতম দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসেছে কয়েক যুগের পুরোনো একমাত্র দুধের বাজার। একসময় যেখানে শতাধিক বিক্রেতার আনাগোনা ছিল, এখন সেখানে টিকে আছেন মাত্র কয়েকজন বিক্রেতা। তারা দুধ বিক্রি বন্ধ করে দিলে এই বাজারটি হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়। ঐতিহ্যের কারণে উপজেলার ভাঙ্গুড়া বাজার পরিচিত ‘দুধ পট্টি’ হিসেবে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক ঐতিহ্যবাহী হাট-বাজার হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী দুধের এ হাটে ৩০ বছর ধরে দুধ বিক্রি করা ফজর আলী বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে এই বাজারে আসি। তখন সকালে ও বিকালে দু’বার বাজার বসত। প্রায় ৬০-৭০ জন বিক্রেতা এখানে দুধ বিক্রি করতেন। সে সময় অনেকেই সরাসরি দুধ বিক্রি করতে পারতেন না, বিক্রেতারা তাদের কাছ থেকে কিনে বাজারে বিক্রি করতেন। তখন ফ্রিজের প্রচলন ছিল না, তাই প্রতিদিন দুধ কেনার প্রয়োজন হতো মানুষের।’ জানা গেছে, পাবনা জেলার মধ্যে যে কয়েকটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদন হয় তার মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত ভাঙ্গুড়া উপজেলা অন্যতম। দুগ্ধ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় ছোট-বড় কয়েক’শ দুগ্ধ খামার রয়েছে। বর্তমান সময় বদলেছে। প্রযুক্তির উন্নয়নে মানুষের জীবনধারাও বদলে গেছে। এখন প্রতিটি বাড়িতে ফ্রিজ আছে, কনফেকশনারি দোকানে সহজলভ্য দুধ পাওয়া যায়, ফলে এ বাজারের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। উপজেলার ভাঙ্গুড়া বাজারের চাউল ব্যবসায়ী আলহাজ্ব রুহুল আমিন সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘এখন মানুষ প্রতিদিন দুধ কেনে না। একবারে বেশি কিনে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। ফলে এমন বাজারের প্রয়োজন কমে গেছে। হয়তো নতুন প্রজন্ম জানবেই না, এই রাস্তায় একসময় শতাধিক বিক্রেতা প্রতিদিন দুধ বিক্রি করতেন। আর এভাবেই একটি ঐতিহ্যের পরিসমাপ্তি ঘটবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
