বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি বৈষম্য নিরসন ও তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ডিপ্লোমার ভাইয়ারা এসো পরীক্ষা দেই’, ‘কোটার নামে বৈষম্য চলবে না চলবে না’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রকৌশল খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কিছু কাঠামোগত বৈষম্য বিদ্যমান বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের সাংবিধানিক অধিকার, মেধা ও পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী। এই বৈষম্যের ফলে দেশের প্রকৌশল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার সংকট ও ন্যায্যতার অভাব তৈরি হচ্ছে। এসময় তারা তিনটি দাবি উপস্থাপন করেন-১. ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড / Assistant Engineer / সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবার জন্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং অবশ্যই বিএসসি ডিগ্রি থাকতে হবে।২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড / Sub Assistant Engineer / সমমান পদ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়েই চাকুরীর পরীক্ষায় সুযোগ পান।৩. বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ “ইঞ্জিনিয়ার” পদবি ব্যবহার করতে পারবে না-এ জন্য আইন পাস করে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।এছাড়াও শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি বৈষ্যমের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে পিডিবি-তে অ্যাসিটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন ৬২.৭%, আর ডিপ্লোমা থেকে প্রমোশনপ্রাপ্ত ৩৭.২% হলেও তারা ৫০% পর্যন্ত দাবি করছে। সরকারি প্রকৌশল বিভাগে অনুমোদিত কোটা ছিল ৩৩%, কিন্তু বাস্তবে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে ৫১.৬% যা অননুমোদিতভাবে বেশি। বিসিএস-এর মতো সর্বোচ্চ মেধাভিত্তিক নিয়োগেও ২০২৪ সালে গন-পূর্ত ক্যাডারে প্রকৌশলীদের সংখ্যা মাত্র ২৫ জন। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে প্রমোশনপ্রাপ্ত ডিপ্লোমাধারীদের সংখ্যা ১৯ জন, যা ৩৩.৩% নয়, বেড়ে হয়েছে ৪৩% কোটার সীমা লঙ্ঘন।এসময় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকৌশল আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ফাহিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি আজকে এই বৃষ্টির দিনে হাবিপ্রবিতে গণজাগরণ তৈরি হয়েছে। আপনারা জানেন দীর্ঘদিন ধরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে কোটা বিরাজমান আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকৌশলীদের দুটি পোস্ট, নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী এবং দশম গ্রেড উপসহকারী প্রকৌশলীকিন্তু দুঃখের বিষয় দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলীর পদ ডিপ্লোমা ধারীরা দখল করে আছে। শুধু তাই নয় নবম গ্রেডের প্রমোশনাল কোটার মাধ্যমে কোথাও ৩৩% কথা ৫০ পার্সেন্ট কোথাও বা ১০০% কোটা নিয়ে নবম গ্রেড ও দখল করে ফেলতেছে।এতে আমরা যারা বিএসসি ডিগ্রিধারী তারা অনেক অনেক বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।’ আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
