২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার প্রাপ্ত ফলাফলে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। ২০২৪ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।এবার, এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৯০২ জন শিক্ষার্থী, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় কম।তবে, ফলাফলের এমন ভরাডুবিতে গণিত বিষয় খারাপ ফলাফলকে দায়ী করেছেন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণার পরে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম জানান, এবার গণিত বিষয়ে ফলাফল খারাপ করার কারণে এর চাপ সমগ্র ফলাফলের উপর গিয়ে পড়েছে।গণিত বিষয়ের ফলাফল বিবরণীতে জানা যায়, এবছর গণিত বিষয়ে পাশের হার সবচেয়ে কম। এ বিষয়ে অংশগ্রহণ করেছে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে ১ লক্ষ ২০ হাজার ৬৩১ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৭২ দশমিক ০১ শতাংশ।এদিকে, সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবছর গণিত বিষয়ের প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন হয়েছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা নিজেরাও চিন্তিত ছিলেন পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে।নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসাইবা জাহান বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে আসার পর থেকেই ফলাফল নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। বিশেষ করে গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন হয়েছে।’নবাব কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাশেদা আক্তার বলেন, ‘মেয়েদের ফল তুলনামূলক ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে প্রস্তুতির ঘাটতি এবং অভ্যাসের অভাব রয়েছে। অভিভাবকরাও যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছেন না। এ বিষয়ে দ্রুত পরিবর্তন জরুরি। এছাড়াও যে বিষয়গুলো খারাপ হয়েছে, সে বিষয়গুলো এবার থেকে এক্সট্রা কেয়ার করা হবে শিক্ষার্থীদেরকে।’কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম বলেন, ‘গণিত বিষয়ের ফলাফল কেন খারাপ হয়েছে, সেটা আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমরা স্কুল প্রধানদের সাথে বসে ফলাফল খারাপের কারণগুলো খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
