গত ৫ জুলাই সময়ের কণ্ঠস্বরের সিএইচসিপি হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, এমন সংবাদ প্রচারের পর সিএইচসিপি হেনা আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।গত শনিবার (৫ জুলাই) তাকে শোকজ করেন গাজীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘কোনাবাড়ী মেঘলাল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হেনা আক্তারকে কারণ দর্শানোর জন্য একটি নোটিশ দিয়েছি।’ তাকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শোকজের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএইচসিপি হেনা আক্তারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।জানা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়িতে মেঘলাল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।তিনি নিজের মন মতো অফিস করেন। এছাড়াও সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই ২ দিন ক্লিনিকে আসেন তিনি। তাও আবার নির্ধারিত সময়ের বাইরে।এ সময় সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে করেন অশোভন আচরণ। গত বুধবার (২ জুলাই) দুপুর ১২টার সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনাবাড়ি এলাকায় মেঘলাল কমিউনিটি ক্লিনিকের দরজায় ঝুলছে তালা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত সেবা উন্মুক্ত থাকবে কমিউনিটি ক্লিনিক। এছাড়া সপ্তাহের এক দিন অর্থাৎ শুক্রবার বন্ধ থাকবে। কিন্তু মেঘলাল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হেনা আক্তার নিজের একক সিদ্ধান্তে সপ্তাহে দুদিন অর্থাৎ সোম ও বৃহস্পতিবার ক্লিনিকে আসেন, এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের আগে ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান, এমনটা বলছেন স্থানীয় লোকজন।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৭ বছর যাবত অদৃশ্য ক্ষমতার বীর দাপটেই একই স্থানে অফিস করছেন তিনি। সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে করেন অশোভন আচরণ। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) চিত্র একটু ভিন্ন, আগের দিন ক্লিনিকে সাংবাদিক এসেছে শুনে সকাল সকাল ক্লিনিকে চলে আসেন হেনা আক্তার।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সেবা গ্রহীতা বলেন, ‘এই ক্লিনিকে এত অনিয়ম তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বেশিরভাগ সময় এসে ঘুরে যেতে হয় কোন কর্মকর্তা না থাকার কারণে। এছাড়াও ওষুধ নিতে আসলে ঠিকমতো ওষুধ পাওয়া যায় না।’কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করেন রশিদের মা। তিনি রোগী আসলে বসার ব্যবস্থা করাসহ অন্যান্য কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘গত ৬ মাসে আগে সপ্তাহে দুই দিন খোলা ছিল। আমি আর কিছু বলতে পারি না। বাবা বলে আর কোন কথা বলেননি তিনি।’মিতালী ক্লাব এলাকা থেকে সেবা নিতে যেতেন গর্ভবতী নারী নুপুর আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি গর্ভবতী থাকা অবস্থায় ক্লিনিকে যেতাম। কিন্তু বেশিরভাগ সময় বন্ধ পেতাম। পরে হেনা মেডাম বলেন, আপনি অসুস্থ, এভাবে এসে ঘুরে যান। আপনি প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আসবেন।’ তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের শেষ নেই।এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে হেনা আক্তার গত সাত বছর ধরে কোনাবাড়ির মেঘলাল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি হিসেবে আছেন। প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়।তবে সিএইচসিপি হেনা আক্তারের দায়িত্বশীল কিছু লোকের দায়িত্বহীন কাজের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবার মান নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।এসকে/এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
