মাত্র ০৭ মিনিটের পথ। তবে এই টানেল পার হতে হলে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া। কর্ণফুলী টানেল ঘিরে এ যেন এক নিরব চাঁদাবাজির ফাঁদ। প্রতিদিন টানেল ব্যবহার করে যাতায়াত করা সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ— বাস কিংবা মাইক্রোবাসে উঠলেই ‘টানেল ভাড়া’ নামে গলাকাটা অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যার কোনো নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ নেই।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) আনোয়ারা প্রান্ত থেকে পতেঙ্গা প্রান্ত পর্যন্ত বাসযোগে টানেল পাড়ি দিতে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মাইক্রোবাসে এই ভাড়া বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। অথচ টানেল পারাপারের জন্য সরকার নির্ধারিত টোল গাড়ির জন্য প্রযোজ্য হলেও যাত্রী ভাড়া নির্ধারণে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা।অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার অভাবে চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে নিজেদের সুবিধামতো বাড়তি টাকা আদায় করছেন। এমনকি কেউ কম ভাড়া দিতে চাইলে হেলপার ও চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে।কলেজছাত্র ইউসুফ আল জাওয়াদ জানান, ‘প্রতিদিন টানেল পাড়ি দিতে ৫০ টাকা বাড়তি দিতে হয়। ছাত্রদের জন্য এটা খুবই কষ্টকর। কিছু বললে উল্টো গায়ে পড়ে ঝগড়া করে।’আরেক যাত্রী মোবারক হোসেন বলেন, ‘সাত মিনিটের পথের জন্য ৫০-১০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে বলে— না গেলে নেমে যান!’গত বছরের নভেম্বর মাসে তৎকালীন ইউএনও ইশতিয়াক ইমনের উপস্থিতিতে এক গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। গণশুনানিতে টানেল ভাড়া ৩০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও সেই সিদ্ধান্ত আজও বাস্তবায়িত হয়নি।বাজার মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, ‘বাস মালিকদের সাথে কয়েক দফা বৈঠকে ৪০ টাকা ভাড়ার বিষয়ে সমঝোতা হলেও তারা তা মানেনি। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েও কার্যকর সমাধান পাইনি।’স্থানীয় ইউপি সদস্য এমএ মনসুর বলেন, ‘কমিটি বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।’গণশুনানিতে অংশ নেওয়া বেসরকারি কারা পরিদর্শক জুবাইরুল আলম জানান, ‘তৎকালীন ইউএনও ও এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে আমরা একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই কমিটি বাস্তবায়নের পথে কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি। প্রয়োজনে আবার প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।’বাসচালক মো. জামাল বলেন, ‘আমরা টোল দিই, তেলের খরচ বেশি, যাত্রী নিয়ে গিয়ে খালি গাড়ি ফিরতে হয়। তাই বাড়তি ভাড়া নিতে হয়।’আরেক চালক মোজাম্মেল বলেন, ‘সারাদিন যাত্রী মেলে না, সকালে ও বিকেলে কিছুটা চাপ থাকে। আমরা লাভে থাকি না।’মাইক্রোবাসচালক রূপন সেন বলেন, ‘টানেল চালুর পর থেকেই এভাবে ভাড়া নিচ্ছি। টোল, হেলপারের বেতন, কোম্পানির কমিশন—সব কিছু কভার করতেই এই ভাড়া।’এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, ‘এ বিষয়ে জেলা থেকে একটি নতুন নির্দেশনা এসেছে, বাস মালিক শ্রমিকদের সাথে একটি বৈঠকে বসে একটি নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তারা যদি এই সিদ্ধান্ত না মানে তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’কর্ণফুলী টানেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘আমরা টোল আদায় করি, যাত্রী ভাড়া নির্ধারণের এখতিয়ার আমাদের নেই। এটি পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বিষয়।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
