চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মেয়ের মৃত্যু এবং সেই শোক সইতে না পেরে বাবারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯নং পরৈকোড়া ইউনিয়নের মাহাত-পাঠনীকোটা গ্রামে। মৃত নারীর নাম শুক্লা দাশ (৪৫)। তিনি আনোয়ারা উপজেলা সদরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী স্থানীয় থানা রোড এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী। জানা গেছে, গত রবিবার (২৯ জুন) ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।মেয়ের মৃত্যুর খবরে তার পিতা অজিৎ দাশ (৭২) ছুটে যান মেয়ের মরদেহ দেখতে। কিন্তু মেয়ের নিথর দেহ দেখে তিনি শোক সহ্য করতে না পেরে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরে এলেও শোক তাকে তাড়া করে ফেরে। একদিনের ব্যবধানে গতকাল সোমবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।বাবা-মেয়ের এমন করুণ মৃত্যুর সংবাদ মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী ভিড় জমান শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য। চারপাশে শুধুই কান্না, শোক আর বিষাদের ছায়া।স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যু যেন বাবার হৃদয়টাই ছিঁড়ে নিয়ে গেল। এমন ঘটনা আমরা এর আগে কখনও দেখিনি। গোটা গ্রামে এখন শুধু শোক আর স্তব্ধতা।’আরেক প্রতিবেশী টিসু কুমার শীল বলেন, ‘মহিলাটি আমাদের একই পাড়ায় ভাড়ায় থাকতেন। তিনি খুবই ভালো ছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি তাকে চিনতাম। তার স্বামীর থানা রোডে কাপড়ের দোকান রয়েছে। তার মৃত্যুর পর তার বাবাও চলে গেলেন। এই শোক সইবার মতো নয়।’পরিবারের সদস্যদের চোখে জল, মুখে কোনো কথা নেই। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আনোয়ারা উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা।এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ডেঙ্গুর প্রকোপ ও তার ভয়াবহ পরিণতি এই ঘটনাটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
