টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পিকনিকে গিয়ে নৌকা থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয় সুজন ফরাজী (১৯)। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মৈশালপাড়া বিলে ভেসে উঠে তার লাশ। সুজনের মায়ের অভিযোগ, পাওনা টাকার জন্য তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।সুজনের মা শাহনাজ বলেন, ‘সন্ধ্যা বেলা আমার ছেলে বাড়িতে এসে বলে, মা আমারে ৪ হাজার টাকা দাও, নইলে নৌকা ওয়ালা আমারে মাইরা ফালাইবো।’ আমি মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে ২৫শ টাকা আর আমার কাছে থাকা ১৫শ টাকা দিয়ে ওকে ৪ হাজার টাকা দিছি। ও টাকাডা দিয়ে আবার এসে পড়বো বইলা বাড়ি থেকে বের হইয়া আর ফিরেনি। শুনছি, নৌকায় মারামারি হইছে, ওরা আমার ছেলেরে খুন করছে।নৌকা ভ্রমণে যোগ দেওয়া রাব্বি বলেন, ‘সুজন সারাদিন নৌকা পিকনিক করার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোড়াই পালপাড়া এলাকায় নেমে বাড়িতে চলে যায়। বাড়ি যাওয়ার পর সুজন জানায়, সে আর আসবেনা। কিন্তু আধা ঘন্টা পর সুজন ফোন করে পুনরায় তাকে নৌকায় তুলতে বললে আমরা তাকে মৈশালপাড়া কবরস্থান এলাকা থেকে নৌকায় তুলি। সুজন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলো। কিন্তু হঠাৎ দেখি সুজন পানিতে পড়ে গেল। আমরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করি, পালপাড়া থেকে মাঝি এনে জাল নিয়ে ওকে রাতভর খুঁজেও পাইনি।’নৌকার সাউন্ড বক্স মালিক রুবেল বলেন, ‘আকাশ ও ফারুক নামের দুইজনের কাছে আমি বক্স ভাড়া দিয়েছিলাম। সেই নৌকা থেকে একজন পানিতে পড়ে মারা গেছে শুনেছি, কিন্তু নৌকায় কি হয়েছে আমি জানি না।’নৌকা চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ইঞ্জিনের কাছে ছিলাম। কি হয়েছে দেখিনি। হঠাৎ দেখি রশি টেনে নৌকা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়, একজন পানিতে পড়ে গেছে। আমি নিজে ৫ হাজার টাকা খরচ করে ওই নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।’মির্জাপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
