চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার অর্ধশত ইটভাটায় চলছে ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি। ইট পোড়ানোর জন্য ভাটার আশপাশে জড়ো করা হয়েছে সংরক্ষিত বনের কাঠ। গত দশ বছরের অধিক সময় ধরে একইভাবে ইট পোড়াতে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আইনে নিষিদ্ধ হলেও বছরের পর বছর ধরে বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এসব ভাটায়। কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষিজমির টপ সয়েল, নদী তীরের মাটি। ইটভাটাগুলোর পাশে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বনাঞ্চল থাকার পরও প্রতিনিয়ত নির্গমন করা হচ্ছে কার্বন ডাই অক্সাইড ও কালো ধোঁয়া। ফলে পরিবেশ দ‚ষণের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও রয়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের একতা ব্রিকস, এবি ব্রিকস, এবিএম ব্রিকস, বিডি ব্রিকস, এনবিআই ব্রিকস, পাইন্দং ইউনিয়নের গ্রামীণ ব্রিকস, এমএ ব্রিকস, দাদা ব্রিকস, এটিএম ব্রিকস, কাজিরহাটের এফবি ব্রিকস, খিরামের এমবি ব্রিকস, এমবিএম ব্রিকসসহ বেশকিছু ভাটায় ইট পোড়ানোর জন্য কাঠ জড়ো করতে দেখা গেছে।ইটভাটা আইনের ধারা ৮ অনুযায়ী, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষিজমি, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা এবং ডিগ্রেডেড এয়ারশেড এলাকায় ভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ ফটিকছড়ি অঞ্চলের প্রায় ভাটাই এই আইনের পরিপন্থী। এ ছাড়া পাইন্দং ইউনিয়নে বনের পাশেই এসবি ব্রিকস এবং এএমবি ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর প্রস্তুতির কাজ চলতে দেখা যায়।২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে আরও বলা হয়েছে, ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা যাবে না। এর ব্যত্যয় হলে তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের তোয়াক্কা না করে বা জরিমানা গুনেই ভাটায় কাঠ পুড়িয়ে যাচ্ছেন ভাটা মালিকরা। এমন কি গত বছর পাইন্দং ইউনিয়নে একাধিক ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে চিমনি ধ্বংস করে দিলেও ফের এসব ভাটায় নতুন করে তৈরি করে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী র্কাযক্রম।নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক ইটভাটা মালিক জানান, সরকারি নিয়ম মেনে কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পরিবেশবান্ধব ভাটা তৈরি করলে প্রতিযোগিতার এ বাজারে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে।ফটিকছড়ি ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘৫৭টি ইটভাটার মধ্যে আমরা এবার ৪৯টি ভাটায় আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে এ সংখ্যা বাড়তেও পারে। ইটভাটায় সংরক্ষিত বনের গাছ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কয়লার দাম বেশি, কয়লা দিয়ে আমরা পোষাতে পারিন না। তাই ইটভাটায় কাঠ পোড়াতে হয়।’উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু ছালেক বলেন, ‘ফটিকছড়ির মাটি খুবই উর্বর। জৈব সারের চেয়েও শক্তিশালী। জমির উপরিভাগের মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার হয়। উপরিভাগের এই মাটিই সবচেয়ে উর্বর ও ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। ফলে টপ সয়েল অপসারণ কৃষির জন্য ক্ষতিকর। কৃষিজমির পাশে বেশিরভাগ ইটভাটা থাকায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।’পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার রিসার্চ অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অচিরেই ম্যাজিস্ট্রেটের সাহায্যে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাবো। এ ছাড়া, কোনো ইটভাটায় যদি ইট পোড়ানোর জন্য কাঠের ব্যবহার হয়, তাহলে ভাটামালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ইটভাটাতে অবাধে সংরক্ষিত বনের কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
