ও পজেটিভ রক্তের বদলে এবি পজেটিভ রক্ত পুশ করায় আব্দুর রউফ নামের এক রোগী নানা ধরনের উপসর্গের যন্ত্রণায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।অপরদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে অসাবধানতার কারণে ল্যাব টেকনোলজিকে  কৈফিয়ত দিতে হবে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তির রোগীর স্বজনরা বলছেন পাশাপাশি সরকারি দুটি হাসপাতালের নানা অনিয়মে  প্রশাসনের কোন  নজর নেই। জানা যায়,  দেলদুয়ার উপজেলার কৌপাখী গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তি হাড়ের রোগ সহ কয়েকটি রোগের উপসর্গ নিয়ে    বুধবার (১৮ জুন) টাঙ্গাইল ২৫০শয্যা  বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তির দিন চিকিৎসক জরুরী ভিত্তিতে রোগী আব্দুর রউফকে রক্ত দেওয়ার জন্য স্বজনদের জানান। এরপর স্বজনরা ওই দিনই ও পজেটিভ রক্তের ডোনার খুঁজে হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকে উপস্থিত করেন। ডোনার এবং রোগীর রক্ত ক্রস ম্যাচিং করে হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজি জানান রোগীর রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ। তাৎক্ষণিক এ বি পজিটিভ রক্তের ডোনার খুঁজেন স্বজনরা। ওই দিনই সন্ধ্যায় এবি পজেটিভ রক্তের ডোনার এনে উপস্থিত করলে ল্যাব টেকনোলজি রক্ত সংগ্রহ করেন। চিকিৎসক রক্ত সন্ধ্যার পর রোগীর শরীরে এবি পজেটিভ রক্ত পুশ করে। প্রায় ৪০ মিনিট রক্ত নালী দিয়ে রক্ত পুশ হয়।তার পরপরই রোগী নানা ধরনের উপসর্গে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে চিকিৎসক রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসক রোগীর হিমোগ্লোবিন কম দেখে তাৎক্ষণিক রক্ত দেওয়ার জন্য স্বজনদের রক্তের ডোনার আনতে বলেন। এবি পজেটিভ রক্তের ডোনার সেখানে উপস্থিত করলে তাদের রক্ত ক্রস ম্যাচিংয়ে দেখা যায় রোগীর  ও পজেটিভ রক্ত ।  এ সময় রোগীর স্বজনরা রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট দুই ধরনের পাওয়া এবং রোগীর শরীরে ভুল রক্ত পুশ হওয়ায় মৃত্যুর আশঙ্কায় করছেন। স্বজনরা জানান, দুটি সরকারি হাসপাতালের নানা অনিয়মে প্রশাসনের নেই কোন নজরদারি। ভর্তির পর হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা রোগীকে ভুল রক্তের গ্রুপ শরীরে পুশ করে।  এরপর রোগীর মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালে তাৎক্ষণিক রোগীকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর  করে।অপরদিকে,টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  কয়েকজন  ভর্তি রোগীর স্বজনরা জানান,একজন রোগীর জন্য জরুরীভাবে কোন ডাক্তার প্রয়োজন হলে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই হাসপাতালে কে ইন্টানি ডাক্তার আর কে আসল (কর্তব্যরত) ডাক্তার সেটা বোঝা বড় দায়। আসল ডাক্তার খুঁজতে গেলে আলো জ্বালিয়েও পাওয়া যায় না। ডাক্তারের কথা জিজ্ঞেস করলে ইন্টানি ডাক্তাররা বলেন আমরাই আসল ডাক্তার। গুরুত্বপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে আসল ডাক্তার প্রয়োজন। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি রইল আসল ডাক্তার যেন খুঁজে পায় রোগীরা।এছাড়াও তারা আরো বলেন, একটি হাসপাতালে গ্রাম গঞ্জের অসহায় অশিক্ষিত কিছু রোগী সেই সাথে রোগীর স্বজন আসে। তারা কিন্তু  আসল আর নকল বুঝতে পারে না। এখানে যদি বাহিরে থেকেও একজন চিকিৎসা দেয় সেটিও বোঝা বড় দায়। কোন তথ্য প্রদান করতে তাদের ভয় থাকে। কারণ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নার্স সহ দায়িত্ব রত যারা রয়েছেন তারা রোগীকে ভালো চিকিৎসা দিতে অনীহা প্রকাশ থাকে। এখানে রোগীদের কোন খোঁজ খবর রাখার মত ডাক্তার-নার্স পাওয়া যায় না। যা পাওয়া যায় তাদের ব্যবহার ভালো না। এদের কাছে দু একবার গেলে অথবা কোন ধরনের ঝামেলা নিয়ে কথা হলে এদের দাপট মনে হয় মাস্তানী ভাব। রোগীর ছেলে উজ্জল (রানা) বলেন, রক্তদাতা ও রোগীর রক্তের ক্রস ম্যাচিংয়ে রোগীর  ও পজেটিভ না হয়ে এবি পজেটিভ বলেছেন জেনারেল হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজি রঞ্জু। যার ফলে  ও পজেটিভ রক্তদাতা চলে যান। এর পরবর্তীতে রোগীর জরুরী রক্ত প্রয়োজন হওয়ায়  এবি পজেটিভ রক্তদাতা এনে ক্রস ম্যাচিং করে রোগীকে এবি পজেটিভ রক্ত পুশ করা হয়। পুশ করার প্রায় ৪০ মিনিটের মধ্যে রোগীর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক চিকিৎসক রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর ডাক্তাররা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে রক্ত দেওয়া লাগবে বলে রক্তের ডোনার আনতে বলেন। ডোনার এনে ক্রস ম্যাচিংয়ে জানতে পারি আমার বাবার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ রয়েছে। এ অবস্থায় রোগীর রক্তের গ্রুপ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান । এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেডিনোভা হসপিটাল, এশিয়া ক্লিনিক, আল মোহনা হসপিটাল ও  ক্লিনিকসহ আরো কয়েকটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হয়। টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হসপিটাল, এশিয়া হসপিটাল এবং আল মোহনা হসপিটালে ও পজেটিভ রিপোর্ট দেয়।এদিকে  ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল এবং একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক মেডিনোভা এবি পজেটিভ রিপোর্ট দেয়।  ও পজেটিভ রক্ত দাতা শামীম বলেন ও পজেটিভ রক্ত দেওয়ার জন্য ছুটে এসেছিলাম।ল্যাব টেকনোলজি রঞ্জু রোগীর সাথে ক্রস ম্যাচিং করে বলেন রোগীর রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ। মেডিনোভা ক্লিনিকের ল্যাব টেকনোলজি খায়রুজ্জামান  বলেন, আমি রক্তের গ্রুপ আবারো পরীক্ষা করে দেখবো। আসলে বিষয়টা কি সেটা পরে জানাবো। এরপর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়।  ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে টেকনোলজি রঞ্জু বলেন, আমি বারবার পরীক্ষা করেছি সে সমস্ত  পরীক্ষায় এবি পজেটিভ এসেছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.খন্দকার  সাদিকুর রহমান বলেন, আমাদের ভুলের দায় এড়ানো সম্ভব নয়।  শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির কারণে একটি প্রতিষ্ঠান বা হাসপাতালের দুর্নাম হতে পারে না।  এটি তো অন্য কোন ভুল না সম্পূর্ণ টেকনোলজির ভুল। যার ফলে দায় টেকনোলজিকেই নিতে হবে। এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
‘বিজয়ের পর ৩ কাজ’, ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল পেজে স্ট্যাটাস
‘বিজয়ের পর ৩ কাজ’, ছাত্রশিবিরের অফিসিয়াল পেজে স্ট্যাটাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ঘোষিত ৮টি ভোটকেন্দ্রের ১৮টি হলের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের Read more

ঈদে মিলাদুন্নবি কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়
ঈদে মিলাদুন্নবি কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবির তারিখ নির্ধারণে আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। রবিবার Read more

জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ
জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে করার দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় Read more

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল
নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ধরে পুলিশে দিল ছাত্রদল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সাইফউদ্দিন রিয়াজ (৩৩) নামের এক ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশে দিয়েছেন ছাত্রদল নেতা। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে দশটার দিকে Read more

কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ৬ মাস পর মামলা, মূল আসামি গ্রেফতার
কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ৬ মাস পর মামলা, মূল আসামি গ্রেফতার

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক কলেজছাত্রীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে সহপাঠি এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হলে Read more

ট্রাইব্যুনালে রেগে হেলমেট ফেলে দিলেন শাজাহান খান
ট্রাইব্যুনালে রেগে হেলমেট ফেলে দিলেন শাজাহান খান

ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় মেজাজ হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময় তাকে রেগে মাথা থেকে হেলমেট Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন