ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ১০ মাস পরও নওগাঁ জেলার (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড) বিটিসিএল ওয়েবসাইটে এখনো সগর্বে শোভা পাচ্ছে ফ্যাসিস্ট সরকারের মুজিব বর্ষের ছবি। বিষয়টি নিয়ে জেলার বিভিন্ন মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতদিনেও কেন ওয়েবসাইট হালনাগাদ হয়নি, সেই প্রশ্ন উঠেছে সবার মনে।বুধবার (০৪ জুন) সকাল ১১টায় নওগাঁর (https://btcl.naogaon.gov.bd) সরকারি তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, রহস্যজনকভাবে ওয়েবসাইটের কভার ফটোতে এখনও ‘মুজিববর্ষে টেলিফোন সংযোগ, পুন:সংযোগ ফ্রি’ বিজ্ঞপ্তির ছবি।এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার ওয়েবসাইট হালনাগাদ করার নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশনাও উপেক্ষা করেছে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ।জুলাই আন্দোলনে নওগাঁর অন্যতম সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আসলে ফ্যাসিস্ট সরকার বিদায় নিলেও তার দোসররা এখনও সরকারি বে-সরকারি বিভিন্ন মহলে রয়ে গেছে। যার ফলে সরকারি নির্দেশনার তোয়ক্কা করছেন না তারা। সরকারের সচিবালয় হতে সব দপ্তরেই ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা বসে রয়েছে, ফলেই এমনটা হচ্ছে। আমি চাই দ্রুত তাদের অপসারণ করা হোক, নয়ত সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে দিবেনা তারা।’নওগাঁ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ১০ মাস পরেও সরকারি দপ্তরে এমন ছবি থাকাটা অবশ্যই নিন্দনীয়। যাদের অবহেলায় এখনও সরকারি ওয়েবসাইটে এমন ছবি শোভা পাচ্ছে, অবশ্যই তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।’বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএল নওগাঁর কনিষ্ট সহকারী ব্যবস্থাপক (বহি১-) শাখাওয়াৎ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আসলে ছবিটা আমরাও দেখেছি এবং এটা সরানোর জন্য ঢাকাতে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো সরানো হয়নি। এটাতো ঢাকা থেকে ডিল করে, রাজশাহী অফিস সব দেখাশোনা করে। তারপরেও আপনি যখন বললেন, আমি জ্যামে আটকে আছি, অফিসে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করব।’বিটিসিএল নওগাঁর সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শাহেনেওয়াজ বলেন, ‘আসলে আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, আগের যিনি দায়িত্বে ছিলেন তার কাছ থেকে পাসওয়ার্ডটি নেয়া হয়নি, তাই আমরা ছবিটা পরিবর্তন করতে পারছিনা। আমরা কয়েকবার চেষ্টাও করেছি কিন্তু পরিবর্তন হচ্ছে না। তাছাড়া ওয়েবসাইটে তেমন প্রবেশ করা হয় না। আপনি যেহেতু অভিযোগ দিলেন, আমি এখুনি বিষয়টা দেখতেছি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
