ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়ক সমস্যার বিষয়টি সম্প্রতি আলোচনায় আসে। জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল সময়ের কণ্ঠস্বর এ ৩০ মে প্রকাশিত “বেহাল সড়কে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রা এখন ঝুঁকিপূর্ণ” শিরোনামের প্রতিবেদনটি জনমনে সাড়া ফেললে। মাত্র একদিন পরই ১ জুন বিকেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। দ্রুততা না, দায়সারা মনোভাবসড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ৪-৫ জন শ্রমিককে সড়কের জমে থাকা পানির মধ্যে ইট ভেঙে ও বালি বিছাতে দেখা যায়। তবে কাজের ধরন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।বার্থী ইউনিয়নের উত্তর বাউরগাতি গ্রামের বাসিন্দা আল-আমিন বেপারী বলেন, “এইভাবে ইট-বালি দিলে সামান্য বৃষ্টিতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, বরং লোক দেখানো কাজ।”কর্তৃপক্ষের নীরবতা, চালকদের ক্ষোভ এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধীক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সড়ককে কাজ করতে আসা ইট ও বালি বহনকারী ট্রাকচালক নয়ন দাস জানান, “আমাদের স্যাররা বলেছেন, পানির মধ্যে পাথর দেওয়া যাবে না। তাই আপাতত ইট ও বালি দিতে বলেছে। পানি শুকালে পরে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে মেরামত করা হবে।”এদিকে পরিবহন চালকদের অভিযোগ, এই কাজ দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসচালক ফেরদৌস মল্লা বলেন, “পানির মধ্যে ইট-বালি বিছালে সেটা গাড়ির ভারে দেবে যায়। শুকালে ধুলাবালিতে আরও সমস্যা হয়। এই কাজ লোক দেখানো ছাড়া কিছু না।”ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ফরিদপুর থেকে গরু নিয়ে আসা গরুবাহী ট্রাক চলাচল মনির কাজি বলেন, “রাস্তার এই অবস্থা থাকলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চাকা খাদে পড়ে পাংচার হয়, গরুর ক্ষতি হয়। বড় ধরনের বিপর্যয় হলে দায় কে নেবে?”জনমতের চাপেই নড়েচড়ে বসা, কিন্তু সমাধান কি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকতার কারণে সমস্যা দৃশ্যমান হলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে, কিন্তু টেকসই সমাধান না হলে জনগণের দুর্ভোগ কাটে না। সাময়িকভাবে রাস্তায় ইট-বালি বিছানো অস্থায়ী সমাধান হতে পারে, কিন্তু বর্ষাকালে তা কার্যকর নয়।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় ঈদ ও কোরবানির মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
