গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলো অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে কতিপয় ভূমিদস্যুরা। এমনকি খাল ভরাট করে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ভবন ও রাস্তাঘাট তৈরির ফলে খালগুলোর মানচিত্রই বদলে গেছে।এগুলো পুনরুদ্ধারে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গত পাঁচ বছরে ঢাকঢোল পিটিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করলেও প্রভাবশালী মহলের কাছ থেকে এসব খাল দখলমুক্ত করতে পারেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই মহানগরীর বড় অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আর পানিতে ভাসতে হয় নিম্নাঞ্চলের দুই লাখেরও বেশি মানুষকে।সরজমিনে গিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, মহানগরীর কাশিমপুরের ১নং ওয়ার্ডের মধ্যে অভ্যন্তরীণ খালগুলো অনেক আগেই অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। এসব খালের অধিকাংশই প্রভাব খাটিয়ে দখল করে সেখানে স্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রভাবশালীরা।এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, অবৈধ দখলের ফলে বৃষ্টির মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতাসহ পচা নর্দমার দুর্গন্ধে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ পানিশাইল মৌজার হাজার হাজার একর জমির পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়।মাছিহাতা এলাকার মামুন মিয়া নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এলাকার বেশ কয়েকটি খাল দখল করে বসতঘর ও রাস্তা নির্মাণ এবং বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আপত্তি জানালেও কোনো ধরনের কর্ণপাত না করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, এই দখলদারদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে থাকেন।পলাশ হাউজিং এলাকার আরেক বাসিন্দা আসমা ভানু জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না! এলাকার খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনও হয় না। এমনকি এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই খাল। যার বিভিন্ন স্থান দখল হওয়ায় স্বাভাবিক পানির প্রবাহ কমে গেছে। তিনি জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমে এখানকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে পানিতে ভাসতে হয়।একই এলাকার বাসিন্দা বেলাল চৌধুরী বলেন, এলাকার অধিকাংশ খাল দখলদাররা ভরাট করেছে, ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে এবং এটিই জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ।পরিবেশবান্ধব সংগঠনের এক নেতা বলেন, অবৈধ দখলদারদের দখলি তৎপরতা অব্যাহত থাকলে নগরে স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি মনে করেন, যে কোনো মূল্যে অতি দ্রুত খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দূষণ কমাতে পরিকল্পিত নগরায়নের দিকে নজর দিতে হবে। অবৈধ দখলদারদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে এবং এদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রুবেল মাহমুদ জানান, খাল দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি দখল করে থাকে, তাহলে অতি দ্রুত তদন্ত করে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে খালগুলো পুনরুদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
