কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বৃহত্তর রাজাপালং ও রত্নাপালং দুই ইউনিয়নে ‘ভিজিএফ’ ও ‘ভিডব্লিউবি’ চাল বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।সোমবার (২৬ মে) দিনব্যাপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট পরিষদের আশপাশে শত শত মানুষ অভিযোগ করতে দেখা গেছে।এসব অভিযোগের সুত্র ধরে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বছরে দুইবার রোজার ঈদ এবং কোরবানির ঈদের আগে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয় সরকার গরিব অসহাদের জন্য। সেই চাল প্রতি বছরের ন্যায় এই বছর এলেও বিতরণে চরম বৈষম্য করেছে ইউপি সদস্যরা। যাদের অট্রালিকা আছে তারাই মূলত এই চাল পেয়েছেন। যারা গরিব এই চাল পাওয়ার যোগ্য তারা এই চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।দুই বছর মেয়াদী ৩০ কেজি চালের ২০২৫-২০২৬ ভিডব্লিউবি নতুন আবেদনেও হয়েছে চরম দুর্নীতি অনিয়ম। অনলাইন করার পরেও নির্দিষ্ট ঘুষের চিহ্ন ছাড়া কাগজ জমা নেয়নি ইউপি সদস্যরা। যারা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা ঘুষ দিতে পেরেছে তাদের কাগজে একটি বিশেষ চিহ্ন থাকায় তাদের কাগজ জমা দেওয়ার আগেই নিয়ে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। এভাবে গরিবের যাবতীয় চালের কার্ডে দুর্নীতি অনিয়নের অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগীরা।উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ১ ও ৩ নং ওয়ার্ডের একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ১০ কেজি চালের কার্ড গুলো ইউপি সদস্যদের আপন লোক যারা তারাই পেয়েছে। কোন গরিব অসহায় রা পাইনি। ইউপি সদস্যরা নিজেরাই এই চালের কার্ড বিক্রি করেছে অন্যন্য মানুষের কাছে। তামিম নামে এক যুবক বলেছেন, হাতেগোনা কয়েকটি গরিব পরিবারে একটি করে কার্ড পেলেও ধ্বনি ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে পেয়েছে ৫ এর অধিক কার্ড। বেশি পাওয়ার কথা গরিবদের। সেখানে ধ্বনিরা পেয়েছে বেশি কার্ড। ১ নং ওয়ার্ডে মূলত মেম্বারপ্রার্থী বেশি হওয়াতে যার মানুষ তাকেই কার্ড দেওয়া হয়ছে। এইখানে গরিব কে,ধ্বনি কে এসব দেখা হয়নি। দেখা হয়ছে মানুষ কার সেটা। এগুলা ইউপি সদস্যরা সম্পর্ণ সরকারের নীতিমালা লঙ্গন করেছে, গরিবদের নাগরিক অধিকার হরণ করেছে।৩ নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, গরিবের চালের কার্ড গুলো অধিকাংশ গ্রামে বিতরণই হয়নি। সব কার্ড ইউপি সদস্যরা মিলেমিশে বিক্রি করে দিয়েছে চাল ব্যবসায়ীর কাছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জুলাই আন্দোলনের উখিয়ার এক সমন্বয়ক বলেছেন, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ হামজা রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের অঘোষিত চেয়ারম্যান। তার অপকর্ম প্রকাশ্যে ভেসে আসছে। পরিষদের সামনেই চাল ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট দাঁড়িয়ে গাড়িতে চাল লোড করে পাচার করেছে। একেক জনের হাতে মিনিমাম ৫০ টি করে কার্ড দেখা গেছে। সব কিছু ইউপি সদস্য সৈয়দ হামজার নেতৃত্বেই ঘটেছে পুরো পরিষদের মানুষ দেখেছে। আজীবন গরিবের হক এভাবে মেরে দিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার। এখনো তাই হচ্ছে। সংস্কার বলতে কিছুই নেই।আব্দুল করিম নামে এক ফেইসবুক ইউজারকারী পোস্ট করেছেন, ৩নং ওয়ার্ডে ১০ কেজি চালের কার্ড গরিবদের না দিয়ে ব্যবসায়ীদের ৩০০ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে।অভিযুক্ত ১,৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া মিলেনি।এসব বিষয়ে জানতে রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত) মির শাহেদুল ইসলাম রোমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সবাই বলাবলি করতেছে শুনেছি। এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। তারপরেও এগুলা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।উখিয়ার অন্যতম ইউনিয়ন রত্নাপালংয়েও ঘটেছে গরিবের চাল কেলোঙ্গীরির ঘটনা। বিশেষ করে ২,৪,৫,৬ এই ৩টি ওয়ার্ডেই এসব অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ কার্ড পুরাতন ভিডব্লিউবি দিতে টাকা নিয়েছে। কেউ নতুন আবেদনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার কেউ ভিজিএফ চালের কার্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।আব্দুল আজিজ নামে এক যুবক জানিয়েছেন, কেউ চালের কার্ড দিতে টাকা নিয়েছে আবার কেউ চালের কার্ড চাল ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে গরিবের হক নষ্ট করেছে। অনেক ইউপি সদস্য এসব কাজে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আমজনতায় ব্যবস্থা নিবে। এখন কারো নাম বলা যাবে না। নাম বললে সতর্ক হয়ে যাবেএসব বিষয়ে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,যারা এসবে জড়িত তাদের নামসহকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হবে। তিনি ব্যবস্থা নিবেন।এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান জানিয়েছেন, দুর্নীতি-অনিয়মকারী কোন ইউপি সদস্যকে ছাড় দেওয়া হবে না। মূল অপরাধী কারা তাদের শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
