ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২৪ ঘণ্টায় আরো ৮৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। অব্যাহত বোমাবর্ষণের ফলে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে শুক্রবার (২৩ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোর থেকে এখন পর্যন্ত এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বহু বৃদ্ধ, নারী ও শিশুও রয়েছেন।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেইর আল বালাহর আল-মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে চালানো হামলায় বহু হতাহতকে উদ্ধার করে আল-আকসা শহিদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আশরাফ আমরার তোলা ছবিতে দেখা যায়, রক্তাক্ত শিশুদের কোলে নিয়ে ছুটছেন আহত স্বজনেরা।এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাজারো মানুষ বর্তমানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি যেসব শিশু ও বৃদ্ধ মারা গেছেন, তাদের মধ্যে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে অনাহারে, যাকে ‘অনাহারজনিত মৃত্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ হাজার ৭৬২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ১৯৭ জন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের এই যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলাও চলছে।গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মৃত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে।গত জানুয়ারিতে হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তি কার্যকর হলেও মার্চে তা ভেঙে দিয়ে ইসরায়েল আবারও গাজায় পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে এবং বোমা হামলার মাত্রাও বাড়িয়েছে।এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
