হামাসের গাজাভিত্তিক প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ার ‘সম্ভবত’ একটি সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে নির্মূল করেছি। আমরা হত্যা করেছি হত্যাকারীদের নেতাদের—মোহাম্মদ দেইফ, ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং সম্ভবত মোহাম্মদ সিনওয়ারকেও।’মোহাম্মদ সিনওয়ারকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে গাজার খান ইউনুসে ইউরোপীয় হাসপাতালে একটি ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হন।তবে এখনো মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর বিষয়টি হামাসের কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি।মোহাম্মদ সিনওয়ার কে?ইসরাইলের সঙ্গে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের জ্যেষ্ঠতম সামরিক কমান্ডারদের একজন মোহাম্মদ সিনওয়ার ছিলেন বলে মনে করা হয়। তিনি ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই ছিলেন।ইয়াহিয়া সিনওয়ার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের চালানো হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হামাস নেতা ছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি হামলায় সিনওয়ার নিহত হন।এদিকে, মাস কয়েক পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, গাজায় নতুন করে শুরু করা সামরিক অভিযান বন্ধ হবে না।তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিনী গাজায় ক্রমাগত আরও অঞ্চল দখল করছে। এই অভিযান শেষ হলে গাজার সমস্ত এলাকা ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’নেতানিয়াহু জানান, ইসরাইল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে—যদি সেটির অংশ হিসেবে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটবে শুধু নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে গাজার নিরস্ত্রীকরণ, হামাসের পতন, এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত স্বেচ্ছামূলক অভিবাসন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।তিনি বলেন, ‘যারা এখনই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে, তারা মূলত হামাসকে ক্ষমতায় রেখেই শান্তি চায়।’এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
