গাজীপুরের শ্রীপুরে টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বাগমারা গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার। বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অথচ এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও দেখা মেলেনি জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের।স্থানীয়রা জানান, গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হচ্ছে শ্রীপুর-গোসিংগা সড়কের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজের পূর্ব পাশের একটি কালভার্ট। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। যার ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।বুধবার (২১ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিচু জমি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। এতে অনেক বাড়ির ভেতরেই পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ ও গৃহপালিত পশু।ইলিয়াস নামের এক বাসিন্দা বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, এই এলাকার পানি ওই কালভার্ট দিয়ে বের হতো। এখন সাবেক সেনা সদস্য হেলাল উদ্দিন, জয়নাল ও আজাদ মাটি ভরাট করে সেখানে স্থাপনা করেছে। হেলাল উদ্দিন তো সরকারি বন বিভাগের জমিও দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।একই এলাকার সিদ্দিক ভান্ডারী জানান, এখানকার প্রায় ৩শ পরিবার গত এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি। খাওয়া, ঘুম, চলাফেরা কিছুই স্বাভাবিকভাবে করা যাচ্ছে না। অনেকেই অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।নাসিমা নামের এক পোশাক শ্রমিক বলেন, “কয়েকদিন ধরে আমরা চরম কষ্টে আছি। রান্না করতে পারি না, পোকামাকড়ের আতঙ্কে ঘরেও থাকা যায় না। কাজে যেতেও পারছি না। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।হারুন, তানভীর, হাসেরা, জসিমসহ একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, পানিবন্দিত্বের সঙ্গে যোগ হয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।সাবেক সেনা সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি কিনে খাজনা খারিজ করে স্থাপনা করেছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ দিয়েছিলাম, কিন্তু আজাদ সাহেব মাটি ভরাট করে সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন। পাশে কিছু বন বিভাগের জমি ছিল, সেখানে মাটি ফেলেছি তবে বন বিভাগ বাধা দিয়েছে, কাজ বন্ধ রয়েছে।শ্রীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে দেখে বলতে হবে। তবে বন বিভাগের জমি দখল করে হেলাল উদ্দিন আরসিসি পিলার নির্মাণ করেছেন, এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।শ্রীপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সজিব আহমেদ বলেন, এসকেভেটর দিয়ে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
