জন্মের চার বছর পর চোখ ওঠা রোগ হয় হাফেজ ক্বারী মো. বায়েজিদের। এরপর ধীরে ধীরে এক চোখে কম দেখতে থাকেন। অস্বচ্ছল পরিবার অর্থাভাবে তাঁকে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছেন। কবিরাজের ভুল চিকিৎসায় দু’চোখের দৃষ্টি হারান বায়েজিদ। পরে ধার দেনা করে ভালো ডাক্তার দেখালে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাঁর। ডাক্তার বলেন, চোখ আর ভালো হবে না। সেই থেকে মো. বায়েজিদ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের গাড়াবেড় গ্রামে মো. বায়েজিদের বাড়ি। তিনি ওই গ্রামের আছাব আলীর ছেলে।হাফেজ ও ক্বারি পাশ করে কোথাও কোন কাজ না পেয়ে নিজ গ্রামের একটি মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি গ্রামেই একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো. বায়েজিদ।সম্প্রতি তাঁর ফ্লেক্সিলোডের দোকানে বসে কথা হলে বায়েজিদ জানান, ‘২০১৮ সালে ক্বারি পাশ করার পর ২০২১ সাল পর্যন্ত নীলফামারির একটি মাদ্রাসায় ব্রেইল পদ্ধতিতে শিক্ষকতা করেন। এরপর বাড়ি এসে গ্রামের একটি মসজিদে পেশ ইমামের দায়িত্ব নেন। মসজিদের যৎসামান্য বেতনে স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন শুরু করেন তিনি।’বায়েজিদ বলেন, ‘পারিবারিক টানা পোড়েন থেকে বাঁচতে বন্ধুর পরামর্শে মাত্র ১৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে এক বছর আগে ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়েছি। এখানে একটি টেবিলে বসে মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ বিল, বিকাশ ও নগদে টাকা লেনদেন করি। মাস শেষে হাজার দুয়েক টাকা লাভ হয়। পাশাপাশি আমি প্রতিবন্ধী ভাতা পাই। এ দিয়েই টেনেটুনে সংসার চলছে।’ব্যবসায় পুঁজি বাড়ালে আরেকটু বেশি লাভ করা যেত। সংসারটা ভালো চলতো। সরকার অথবা সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুতি জানিয়ে এ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলেন, ‘সমাজে অনেক বিত্তবান আছে যারা অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। সরকারিভাবেও সহায়তা করে। আমি যদি আর্থিক সহযোগিতা পেতাম তাহলে ফ্লেক্সিলোডের পাশাপাশি অন্য ব্যবসাও করার সুযোগ পেতাম। নিশ্চিন্তে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেয়ে ঘুমোতে পারতাম।’স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বায়েজিদ হুজুর খুব ভালো মানুষ। তিনি প্রতিবন্ধী হয়েও ব্যবসা করে খাচ্ছেন। ব্যবসায় বেশি টাকা খাটাতে পারলে সংসারটা ভালো চলতো তাঁর।’রব্বানী নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘রাস্তার পাশেই একটি টিনের একচালা ঘর ভাড়া নিয়ে দোকান দিয়েছে বায়েজিদ। সে অন্ধ হওয়ায় একা চলাফেরা করা কঠিন। মসজিদে নামাজ পড়িয়ে আবার দোকানে বসে। অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও একটি বাটন ও একটি স্মার্ট ফোনে টক ব্যাক ফাংশন ব্যবহার করে দোকান চালায়।’স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এরশাদ হোসেন বলেন, ‘খুবই শোচনীয় অবস্থা বায়েজিদের। একেতে গরিব, তারপর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। কারো কাছে হাত না পেয়ে সে ব্যবসা করছে। সরকার বা বিত্তবান কেউ সহযোগিতা করলে হয়তো ব্যবসাটা বড় করতে পারতো।’এসআর 

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ, ভারতীয় সেনা উপস্থিতি ঘিরে সন্দেহ- একাত্তরে বিজয়ের পর বাংলাদেশে যা যা ঘটেছিল
খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ, ভারতীয় সেনা উপস্থিতি ঘিরে সন্দেহ- একাত্তরে বিজয়ের পর বাংলাদেশে যা যা ঘটেছিল

খাতা কলমে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমপর্ণ করলেও দেশের অনেক এলাকা পরেও তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এদিকে, ভারতীয় সেনারা Read more

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন ট্রাম্প
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন ট্রাম্প

চলতি বছরের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার কয়েক ঘণ্টার আকাশযুদ্ধ নিয়ে নতুন তথ্য তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি Read more

আদালতে হঠাৎ অসুস্থ পরীমনি, জেরা পেছাল
আদালতে হঠাৎ অসুস্থ পরীমনি, জেরা পেছাল

মারধর, হুমকি ও যৌন হয়রানির মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণিকে জেরার জন্য আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার (২৬ Read more

পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘গ্লোবাল কিডস স্কুল’
পথশিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘গ্লোবাল কিডস স্কুল’

রাস্তার ধুলোবালি, ট্রাফিকের শব্দ আর অনিশ্চিত জীবনের ভিড়ে গাজীপুর শহরের ফুটপাতে প্রতিদিন দেখা মেলে অগণিত পথশিশুর। কেউ প্লাস্টিক বোতল কুড়ায়, Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন