বগুড়ার শেরপুরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) মো. রঞ্জু সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অবৈধ নামজারির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন প্রায় শতাধিক ভূমিহীন মানুষ।বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই মানববন্ধন পালন করেন তারা। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার ১০ নং শাহবন্দেগী ইউনিয়নের কদিমুকুন্দ মৌজার হাটদীঘি সরকারি পুকুর এবং এর পাড়ে বসবাসকারী ভূমিহীনদের বসতবাড়ির জায়গা ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে সুবাস চন্দ্র মাহাতো গংদের নামে নামজারি করে দিয়েছেন নায়েব রঞ্জু সরকার।১৯৮৮ সাল থেকে এসব জায়গায় বসবাসকারী প্রায় ৪০-৪৫টি পরিবার এখন উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ ভূমিহীনদের পক্ষে মো. দুলাল হোসেন বলেন, “দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আমরা এখানে বাস করছি। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে নায়েব রঞ্জু সরকার আমাদের ভিটেমাটি অন্যের নামে লিখে দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই জালিয়াতির বিচার এবং দুর্নীতিবাজ নায়েবের অপসারণ চাই।”অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নায়েব মো. রঞ্জু সরকার মুঠোফোনে জানান, “আমি গতকালই মির্জাপুরে যোগদান করেছি। এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মূলত আগের নায়েব স্বপ্না আমাকে বিপদে ফেলার জন্য এবং আমার যোগদানকে বাধাগ্রস্ত করতে এই ষড়যন্ত্র ও মানববন্ধন করাচ্ছেন।”অন্যদিকে, জমির দাবিদার সুবাস চন্দ্র মাহাতো জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ লেনদেন করিনি। জিপি (গভর্নমেন্ট প্লিডার) সাহেবের আইনি মতামতের ভিত্তিতেই আমাদের নামে নামজারি হয়েছে। আমাদের কাছে বৈধ নথিপত্র রয়েছে।”এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু জানান, ভূমিহীনদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমি পেয়েছি। তবে নায়েব বা উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি মূলত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়ের এখতিয়ারভুক্ত। অভিযোগকারীরা আমার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন, কিন্তু এ ধরণের অভিযোগ বা বদলির দাবি জানানোর সঠিক স্থান হলো ডিসি অফিস। আমি তাদের আবেদনটি গ্রহণ করেছি এবং এটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
