ময়মনসিংহের ত্রিশালে বোরো ধানের সোনালী শীষে মাঠ ভরে উঠলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাম্পার ফলন সত্ত্বেও প্রতিকূল আবহাওয়া আর তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাজারে ধানের বর্তমান দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি অনেকটা বেশি যে, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।সরেজমিনে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক জন ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। অথচ স্থানীয় বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে।হিসেব কষলে দেখা যায়, এক জন শ্রমিকের এক দিনের মজুরি মেটাতে কৃষককে প্রায় দেড় মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার কৃষক জুলহাস উদ্দিন জানান, “সার, বীজ, সেচ এবং কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার ধান চাষে খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিঘা প্রতি ধান কাটতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেওয়া এখন বড় দায়।” স্থানীয় শ্রমিকের তীব্র অভাব থাকায় বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় মজুরি কোনোভাবেই ১০০০-১১০০ টাকার নিচে নামছে না। অনেক জায়গায় পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটা সম্ভব হচ্ছে না।এতে করে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। কৃষক আলাল উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “ঘাম ঝরিয়ে ধান ফলালাম, কিন্তু এখন শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারভাইজাররা কৃষকদের বেশ কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। কৃষকরা যেন ধান কাটার পরপরই বাজারে বিক্রি না করেন। ধান ভালোভাবে শুকিয়ে বিক্রি করলে বাজারে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে তারা জানান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া রহমান জানান, শিলাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ফসল রক্ষা করতে জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই তা দ্রুত কেটে ফেলার কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
