নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের হাসিমপুরে অবস্থিত জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক শিক্ষক জুনাইদ হোসেন (৩৫) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০ ঘটিকার দিকে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি মঙ্গলবার ( ২৮ এপ্রিল) সকালে নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান।জুনাইদ হোসেন(৩৫) রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে ও উক্ত মাদ্রাসার মুহতামিম। তিনি তার স্ত্রী সহ উক্ত মাদ্রাসাতেই বসবাস করতেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি পালতক ছিলেন।এর আগে ২৬ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মা ধর্ষণের অভিযোগে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাদ্রাসাটিতে আবাসিকে থেকে লেখাপড়া করত। গত শুক্রবার ২৪ এপ্রিল রাতে শিশুটি মাদ্রাসায় ঘুমানোর সময় মাদ্রাসার শিক্ষক জোনায়েদ হোসেন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তার ডাকচিৎকারে আশপাশে থাকা তার সহপাঠীরা ঘুম থেকে উঠে গেলে শিক্ষক চলে যায়।পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের লোকজন মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে না পেয়ে থানায় যেতে চাই। কিন্ত স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা ও এলাকার মাতব্বরদের যোগসাজশে একটি মহল ধর্ষনের বিষয় টি ধামাচাপা দিতে চাই এবং মীমাংসা করে দেবে বলে তাদের থানায় যেতে বাধা প্রদান করে। পরে রাতেই এলাকার একটি মহলের সহযোগিতায় প্রথমে মীমাংসার চেষ্টা করলে ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী তা মানেননি।এই বিষয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পরেন। রাতেই সবাই মিলে মাদ্রাসায় গিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারকে থানায় মামলা করতে বলে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। তারা দ্রুত অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত বা সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, মিছিল করে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সরব হয়ে উঠে সাধারন মানুষজন।স্থানীয়রা আরও জানায়, জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদ্রাসার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক আচরণের একাধিক অভিযোগ ছিল। সর্বশেষ ঘটনাটি প্রথমে গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
