বৈশাখের তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন প্রায় অতিষ্ঠ, ঠিক সেই সময় প্রকৃতি যেন নাগরপুরকে সাজিয়েছে এক ভিন্ন রূপে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, মোড় এবং ধলেশ্বরী নদীর তীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কৃষ্ণচূড়া ফুলের রক্তিম আভা। নীল আকাশ আর সবুজ পাতার ফাঁকে এই লাল রঙ যেন জ্বলন্ত আগুনের শিখার মতো চারপাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য।সরেজমিনে দেখা গেছে, নাগরপুর সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন বিশাল লাল ছাতা মাথার ওপর ছায়া দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা বাতাসে ঝরে পড়া ফুলগুলো রাস্তার ওপর লাল গালিচার মতো বিছিয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে, যা পথচারীদের ক্লান্তি দূর করে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি।স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা মোঃ জব্বার আলী বলেন,”আগে নাগরপুরে কৃষ্ণচূড়া গাছের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সময়ের সাথে তা কিছুটা কমে গেলেও বৈশাখ এলে এখনো এই ফুলে ভরা গাছগুলো মনকে নাড়া দেয়। এই প্রচণ্ড গরমেও ফুলগুলোর দিকে তাকালে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়। কৃষ্ণচূড়া আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।”তরুণ প্রজন্মের অনুভূতি তুলে ধরে শিক্ষার্থী মোঃ রায়হান জানায়,”স্কুলে যাওয়ার পথে কৃষ্ণচূড়ার নিচ দিয়ে হাঁটতে খুব ভালো লাগে। মনে হয় প্রকৃতি যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। সবুজের মাঝে এই লাল রঙ আমাদের মনকে সতেজ করে তোলে।”স্থানীয় চা বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম বলেন, “দুপুরের প্রচণ্ড গরমে অনেকেই আমার দোকানের পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এসে বসেন। এই গাছের ছায়া মানুষের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। এতে করে পরিবেশটাও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।”উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস. এম. রাশেদুল হাসান বলেন, “কৃষ্ণচূড়া গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, এর বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা তীব্র রোদে ছায়া দিয়ে স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি রাস্তার পাশের মাটির ক্ষয় রোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় গাছ রোপণে গুরুত্ব দিচ্ছি।”নাগরপুরের পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, কৃষ্ণচূড়াসহ দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণ এবং নতুন করে চারা রোপণে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। প্রকৃতির রুদ্রতা ও সৌন্দর্যের অপূর্ব মিশেলে কৃষ্ণচূড়া আজও নাগরপুরবাসীর মনে জাগিয়ে রাখছে নতুনের উদ্দীপনা।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
