রাজশাহীর বাঘায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মসূচির উপজেলা পর্যায়ে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের অধীনে ‘শিখা প্রকল্প’র অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রহমাতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম।প্রকল্প কর্মকর্তা সাবির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর আলী, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ওবাইদুল হক, বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক, উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে শিখা প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার মিতা রানি সরকার শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যপরিধি এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচির লক্ষ্য তুলে ধরেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্সের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ, বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা ও যৌন হয়রানি হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবিহা সুলতানা ডলি বলেন, যৌন হয়রানি একটি ভয়াবহ অপরাধ, যার প্রভাব একজন ভুক্তভোগীর পুরো জীবনজুড়ে থেকে যায়। এটি শিশু ও নারীদের মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত সর্বত্র নারীদের নিরাপদ ও সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক বলেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। যেকোনো অভিযোগ আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভুক্তভোগীরা নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ওবাইদুল হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার স্থান। ‘শিখা প্রকল্প’ এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই ।মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, ভুক্তভোগীরা যেন নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারে, শিখা প্রকল্প’ যেন এমন সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এ বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সহায়তা প্রদান করবে।প্রকল্প কর্মকর্তা সাবির হোসেন বলেন, শিখা প্রকল্প মূলত উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক স্পেস এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করবে। জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
