তীব্র গরমে যখন জনজীবন এমনিতেই বিপর্যস্ত, তখন বিদ্যুতের দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা। একই সঙ্গে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।জানা গেছে, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে; তীব্র গরমে ভর্তি রোগীরা চরম কষ্টে রয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আউটডোরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলেও সময়মতো রিপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এক্স-রে সেবাও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জেনারেটর থাকলেও সেটি সচল রাখতে পর্যাপ্ত তেলের বরাদ্দ নেই; বাজারেও সহজে তেল মিলছে না, ফলে বিকল্প ব্যবস্থাও অনেকাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এছাড়া সবচেয়ে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে টিকাদান কার্যক্রম, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে হামের টিকা সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, এতে টিকার কার্যকারিতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থার এমন নাজুক অবস্থাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন; কেউ কেউ অবিলম্বে সমাধান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। জরুরি রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই দিকে নজর রাখা রাখছি। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায়।”অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণ সম্পর্কে মেঘনা সাবজোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) প্রকৌশলী মো. আল-মামুন সবুজ বলেন, মেঘনা উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১১ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে ছয়টি লাইনের মধ্যে প্রতি ঘণ্টায় পর্যায়ক্রমে ২ থেকে ৩টি লাইনে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে উপজেলায় গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি লোডশেডিং চলছে। তাছাড়া এই সমস্যা শুধু মেঘনার নয়; সারা দেশের পল্লীবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় একই ধরনের সংকট অব্যাহত রয়েছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
