চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে বীর দাপটেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পলাশ পরিবহনের ভাঙাচুরা ফিটনেসবিহীন বাস ও অদক্ষ চালকরা। এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই চলাচল করছে। আর এদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বাড়ছে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আশুলিয়ার নবীনগর থেকে চন্দ্রা হয়ে গাজীপুর (টিএনটি মোড়) মহাসড়কে এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ার মতো। গত ২৭ জুন চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কের কবিরপুর এলাকায় এই ফিটনেসবিহীন পলাশ পরিবহনের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে মোটরসাইকেল চালকের কোমরের হাড় পর্যন্ত ভেঙে যায়। এছাড়াও পলাশ পরিবহনের বাসের চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেই। এমনকি দুই-তৃতীয়াংশ চালকের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তারা অধিকাংশ সময় মাদকাসক্ত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ যানবাহনে সড়ক প্রায় সময় থাকে দখলে। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণহানিসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা।কোন কোন স্থানে ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশ পরিবহনের হেলপার রকি ওরফে মনির বলেন, ‘আমাদের পলাশ পরিবহনের গাড়িগুলো সাধারণত ৪০ টা গাড়ির মাঝে ৩০ গাড়ীর কাগজপত্র ডেট ফেল। এমনকি এই পরিবহনে যদি ১০০ জন ড্রাইভার থাকে তার মাঝে ৮০ জনের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।’তাই গাড়িগুলো পুলিশের সার্জেন্ট ধরলে কাগজের ভিতরে ৫ শত বা ১ হাজার টাকা ভরে দিলেই চলে। আর এভাবেই দিনের পর দিন চলছে। এছাড়াও চৌরাস্তা স্ট্যান্ডে, নবীনগর স্ট্যান্ড, বাইপাইল, জিরানি, চন্দ্রা এলাকায় টাকা দিতে হয়।ফিটনেসবিহীন ও কাগজপত্র ডেট ফেল বাস মহাসড়কে কিভাবে চলছে, এ বিষয়ে পলাশ পরিবহনের ড্রাইভার নাহিদ মিয়ার বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গত তিন মাস যাবৎ গাড়ি চালাচ্ছি। এখন পর্যন্ত পুলিশ ধরতে পারে নাই।’ তবে মাঝে মাঝে চন্দ্রা ফায়ার সার্ভিস এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ চেক পোস্টে গাড়ি ধরলে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। আর আমাদের গাড়ি বেশিরভাগ কাগজপত্রই ডেট ফেল, তার জন্য ডাম্পিং বা রেকার বিলের ভয় দেখায় পরে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা দিতে হয়।চন্দ্রা-নবীনগর রুটের বাসচালক কামাল হোসেন বলেন, ‘পলাশ পরিবহনের বাসের জন্য সড়কে গাড়ি চালানো কঠিন। এসব গাড়ির চালকের কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই। সড়কের যেখানে-সেখানে তারা দাঁড়িয়ে যায়, হঠাৎ করেই ইউটার্ন নিয়ে বসে। এসব কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয়।’জিরানি বাজার বাসস্ট্যান্ডের টিকিট কাউন্টারের কর্মী শাহজালাল মিয়া বলেন, ‘আমরা বারবার নিষেধ করার পরও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন চলছে।’এ ব্যাপারে আশুলিয়ার নবীনগর স্ট্যান্ডের পলাশ পরিবহনের টাইম মাস্টার স্বপন মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমাদের পলাশ পরিবহনের ৪০ থেকে ৪৫টি গাড়ি রয়েছে। তার মাঝে কয়েকটা গাড়ির কাগজপত্র ডেট ফেল থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন। আর গাড়ির কাগজপত্র থাকলেও পুলিশ ধরে আর না থাকলেও ধরে পুলিশ।’এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রতিটি ফিটনেসবিহীন ও ডেটফেল গাড়ি ধরে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’আর যদি কাউকে ম্যানেজ করে তারা মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সেই সমস্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ গাজীপুর রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘আমি এখনি আমাদের হাইওয়ে থানাতে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক রয়েছেন তাদের সাথে কথা বলে যত্রতত্র মহাসড়কে গাড়ি পার্কিং বা স্ট্যান্ড করে না রাখতে পারে, সে বিষয়ে এখনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’এছাড়াও কাগজপত্র ডেট ফেল বা ফিটনেসবিহীন এবং লাইসেন্সবিহীন অনভিজ্ঞ ড্রাইভার দিয়ে মহাসড়কে গাড়ি চালানোর কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো পরিবহন করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
