পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে আর সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রায় ৩ বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান মো: রুহুল আমিন (৩৮)। বিদেশ যাওয়ার আগে তার একটি নিজের চায়ের দোকান ছিল। আগামী কোরবানির ঈদে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল রুহুল আমিনের। দরিদ্র নামের সংসারের বোঝা রেখেই চলেই গেলেন না ফেরার দেশে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, টাকার মেশিনটা কাজ করা অবস্থায় মাটি চাপা পড়ে ইন্তেকাল করেন।শুক্রবার (৩ এপিল) সকালে মালেশিয়ার জহুর বারু ডিস্ট্রিক্টের পাহাং এ কাজ করা অবস্থায় মাটি চাপা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে তার লাশ জহুর বারু ইমিগ্রেশন বিভাগের পুলিশ পাহাং এর মর্গে নিয়ে যায়।নিহত রুহুল আমিন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের পুকুর পাড়া গ্রামের মৃত বয়েন উদ্দিনের ছেলে।স্থানীয়রা জানান, অভাব অনটনের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করছিলেন রুহুল আমিন। হঠাৎ খবর আসে, কাজ করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে মারা গেছেন তিনি।নিহত রুহুল আমিনের মেয়ে রুনা লায়লা বলেন, আমার বাবা পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। আমাদের সবাইকে এতিম করে চলে গেলেন। এখন আমরা কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা দুই বোন এক ভাই। এখন মা ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আপনারা সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। এখন আমার বাবার লাশের জন্য অপেক্ষা আর দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।আমার বাবাসহ তিনজন ২৫ থেকে ৩০ ফুট মাটির নীচে ড্রেনের কাজ করছিল। দুইজন উপরে ওঠে আসে। আমার বাবা দুই ধাপ উপরে উঠতেই মাটি ধ্বসে চাপা পড়েন।’নিহত রুহুল আমিনের বড় ভাই বজলুর রহমান বলেন, আমার ছোট ভাই রুহুল আমিন দীর্ঘ ৩ বছর মালেশিয়ায় ছিল। হঠাৎ সকালে শুনতে পাই কাজ করতে গিয়ে মাটি চাপা পড়ে সে মারা গেছে। তার দুই মেয়ে আর এক ছেলে। পরিবারের উপার্জন করার একমাত্র সেই ছিল। তার ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১০ বছর। তার স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে কিভাবে চলবে ভেবে মাথায় কাজ করছে না।তিনি আরও বলেন, আমরা তার সহকর্মীদের সাথে সার্বিক যোগাযোগ রেখেছি। তারা যত দ্রুত সম্ভব লাশ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা কাগজপত্র প্রস্তুত করে দ্রুত সেখানে পাঠাবো। তবে কবে লাশ দেশে আসবে আমরা বুঝতে পারছি না।বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন, রুহুল আমিনের লাশ দ্রুত দেশে আনার জন্য যে সকল কাগজপত্র লাগবে আমার কাছে আসলে তা ঠিক করে দিয়ে দেব। এছাড়া আমার ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, তার বৈধ কাগজপত্র থাকলে সরকারি যে সুবিধা পাওয়ার কথা সেগুলোর ব্যাপারে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
