মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা জান্তা ও আরাকান আর্মীর গণহত্যা বন্ধ এবং নিরাপদ-মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা।শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উখিয়ার ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খেলার মাঠে রোহিঙ্গা সিভিল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে শত শত রোহিঙ্গা অংশ নেন।রোহিঙ্গা নেতারা আসন্ন জাতিসংঘ আয়োজিত ৩০ সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে সংকট সমাধানের বড় সুযোগ হিসেবে দেখলেও সেখানে আনুষ্ঠানিক রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারই প্রেক্ষিতে সমাবেশ করেন রোহিঙ্গারা।সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রোহিঙ্গা নেতা মৌলভি সৈয়দ উল্লাহ, মোহাম্মদ শোয়াইব, সাজেদা বেগম, খিন মং ও জাহাঙ্গীর আলম। বক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুধু আলোচনা নয়, বরং সময়সীমাবদ্ধ বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।এক রোহিঙ্গা নেতার দাবি, ‘আমাদের ছাড়া আমাদের ভাগ্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত টেকসই হতে পারে না।’ এসময় সকলেই তিন দাবি দিয়ে সমাবেশ ত্যাগ করেন।তিন দাবিতে রয়েছে: ১. পূর্বপুরুষের ভূমি রাখাইনে ফেরত পাঠাতে সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন। ২. নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা। ৩. মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মীর গণহত্যার বিচার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।সেখানে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা বলেন, কেবল আন্তর্জাতিক আলোচনা নয়, বরং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে গণহত্যার পর বাংলাদেশে নতুন করে সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। এর পরের দুই বছরে আরও দেড় লাখ প্রবেশ করে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ ও ভাসানচরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে— যারা বছরের পর বছর বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
