টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও নদী-সাগরের পানি বেড়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং, বাহারছড়া ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পানি ঢুকে পড়ে ঘরবাড়ি, সড়ক ও ক্ষেত-খামার। বিশেষ করে সদর ইউনিয়নের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে।সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরের পর সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ডেইলপাড়া, পল্লানপাড়া, মহেশখালীপাড়া, নাজিরপাড়া, রঙ্গীখালী, আলীখালী, লেদা, উলুবনিয়া, মৌলভীপাড়া, শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়াসহ অন্তত ৩০টির বেশি পাড়া ও গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।স্থানীয় সূত্র বলছে, অন্তত ৩০০টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বসতঘরের ভেতর হাঁটুসমান পানি উঠেছে। গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ।টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, ইসলামাবাদ, নাইটং পাড়াও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ নাফনদী সংলগ্ন কাইয়ুকখালী খালের বড় অংশ ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়া।হ্নীলার রঙ্গীখালীর বাসিন্দা নাছির উদ্দিন রাজ বলেন, ‘প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি। ইউপি চেয়ারম্যানের সহায়তায় খাবার দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।’সদর ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, তাঁর ইউনিয়নের অন্তত ২০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে। পাহাড়ি এলাকায় যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, তাদের নিরাপদ স্থানে চলে আসতে বলা হয়েছে।টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিনের ধরে চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা মুলক মাইকিং প্রচার করার পাশাপাশি পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবার গুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিটি এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সরকারি ত্রাণ বিতরণে কোন প্রকার বৈষম্য যেন না করা হয়।’সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি, নাফনদী সংলগ্ন বানিজ্যিক ক্ষ্যত কাইয়ুকখালী খালটির ৩০ % অংশ এখন ভুমিগ্রাসীদের দখলে চলে গেছে। এটিই টেকনাফ সদর ও পৌরসভা বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার মূল কারন। তারা জানান, ন্যায়,পানি চলাচলের রাস্তা গুলো খুলে দিলে অত্র এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
